চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি পরিবারের অন্তত ২০টি বসতঘর পুড়ে ছাই হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (১৩ মে ২০২৬) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর সাহেবগঞ্জ গ্রামের বেচার বাপের বাড়িতে দেলোয়ার হোসেনের ঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দুপুরের দিকে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল দাহ্যতা ও বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী আগুনে ১১টি পরিবারের মোট ২০টি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন- মকবুল হোসেন, নজরুল ইসলাম তুষার, আইউব আলী, দেলোয়ার হোসেন, আবুল কাশেম, আবুল খায়ের, ইমরান হোসেন, আবুল হাসেম, মামুনসহ তাদের স্বজনরা।
ক্ষতিগ্রস্ত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, “দুপুরে রান্নাবান্না শেষ করে গোসল করতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ইমরান হোসেন বলেন, “দেলোয়ার হোসেনের ঘর থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তাণ্ডবে আমাদের ঘরের কোনো জিনিসপত্র অবশিষ্ট নেই। আমরা এখন নিঃস্ব।”
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, আগুনে উত্তর সাহেবগঞ্জ গ্রামের অন্তত ২০টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

