গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সুমন শেখ (১৫) নামের এক কিশোরকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক মামলার সংশ্লিষ্টতা নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ভাট্টাইধোবা গ্রামের মো. রাজিব মিয়ার বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজিব মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া ইসলামের একটি সোনার কানের দুল, একটি স্বর্ণের চেইনসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল চুরি হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কাশিয়ানী থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সুমন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়।
কাশিয়ানী থানা পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। সর্বশেষ চুরির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, "এটি সম্পূর্ণ একটি চুরির মামলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মামলার কথা বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। মামলার তদন্ত আইন অনুযায়ী চলমান রয়েছে।"
যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচার না করার জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো তথ্য প্রকাশ বা শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
ওসি আরও জানান, গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রচার এবং তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
কালের সমাজ/কে.পি

