টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পর্যটকশূন্য হয়ে উঠেছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট। এতে হোটেল-রিসোর্ট মালিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবিকায় নেমে এসেছে চরম সংকট। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এক সপ্তাহের এই অচলাবস্থায় পর্যটন খাতে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে ডলফিন মোড়, লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। পর্যটকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যারা এসেছেন, তারাও বৃষ্টির কারণে বেশিক্ষণ সৈকতে অবস্থান করতে না পেরে দ্রুত হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন।
সৈকতসংলগ্ন অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা অল্প কয়েকটি দোকানেও ক্রেতার দেখা মিলছে না। ঝালমুড়ি, চটপটি, বিচ বাইক, চেয়ার-ছাতা ভাড়া, ঘোড়ায় চড়া, ফটোগ্রাফিসহ পর্যটকনির্ভর প্রায় সব ধরনের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক পর্যটক তাদের বুকিং বাতিল করেছেন। জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৭০ হাজারের বেশি কক্ষের বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে হাতে গোনা কিছু পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করলেও অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে এক সপ্তাহে পর্যটন খাতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, টানা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। এতে নতুন পর্যটকের আগমন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
খুলনার বাগেরহাট থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক শাহীন আহমেদ বলেন, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কয়েকদিন থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সারাদিন হোটেল কক্ষে বন্দি থাকতে হচ্ছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যেতে হবে।
সৈকতের বিচ বাইক ব্যবসায়ী মনির, ব্যবসায়ী বেলালসহ কয়েকজন জানান, কয়েকদিন ধরে কার্যত কোনো আয় নেই। প্রতিদিনের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। একই কথা বলেন চা ও কফি বিক্রেতা লিটন ও ফাহাদ। তারা জানান, সারাদিন দোকান খোলা রেখেও একটি কাপ চা বা কফি বিক্রি করতে পারছেন না।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, বৈরী আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। দ্রুত আবহাওয়ার উন্নতি না হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পুরো পর্যটন শিল্প বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে।
কালের সমাজ/এসআর

