২০২৪ সালের আগস্টের সেই প্রলয়ঙ্করী বন্যার দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় ফেনীর মানুষকে। ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও জীবিকার সম্বল হারানোর ক্ষত এখনো শুকায়নি। এরই মধ্যে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বর্ষণে জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করায় নতুন করে কপালে ভাঁজ পড়েছে ফেনীবাসীর। বন্যার আশঙ্কার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশেষ করে নদীতীর ও চরাঞ্চলের মানুষ আবারও অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে ভারতের ত্রিপুরা ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এখনো পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতির অবনতি হলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষদের মধ্যে। গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক বেড়িবাঁধ মেরামত করা হলেও সেগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয়দের সংশয় কাটেনি। তাদের আশঙ্কা, পাহাড়ি ঢলের তীব্র চাপ এলে দুর্বল বাঁধ আবারও ভেঙে যেতে পারে।
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় জেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। লাখো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে কিংবা উঁচু সড়কে মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন। অনেক পরিবার আজও সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই নদীর পানি বাড়ার প্রতিটি সংবাদ যেন নতুন করে আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীর পানির উচ্চতা নিয়মিত মনিটরিং, শুকনো খাবার মজুত, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
তবু ফেনীর মানুষের মনে প্রশ্ন একটাই যদি আবার বড় বন্যা আসে, তবে কী হবে তাদের ভাগ্যে? নতুন করে প্লাবিত হলে ঘরবাড়ি, ফসল, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব, পানিবাহিত রোগের বিস্তার এবং দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগে পড়তে পারেন হাজার হাজার মানুষ।
এক বছরের ব্যবধানে আরেকটি বড় বন্যা ফেনীর মানুষের জীবন-জীবিকাকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। তাই এখন সময় সতর্কতা, প্রস্তুতি এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের, যাতে প্রকৃতির সম্ভাব্য এই দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়।
কালের সমাজ/এএইচবি

