ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

৬ জন প্রকৃতি সংরক্ষক পেলেন ব্র্যাক ব্যাংক-তরুপল্লব নিবেদিত দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক | জুলাই ১০, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম ৬ জন প্রকৃতি সংরক্ষক পেলেন ব্র্যাক ব্যাংক-তরুপল্লব নিবেদিত দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ নিয়ে গবেষণা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্র্যাক ব্যাংক এবং তরুপল্লব যৌথভাবে ৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫’ প্রদান করেছে। ১০ জুলাই ২০২৬, ঢাকার বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। 

বাংলাদেশের প্রখ্যাত উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও প্রকৃতিবিদ প্রয়াত অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার নামে প্রবর্তিত এই পদক প্রকৃতি সংরক্ষণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করে, যাঁদের কাজ দেশজুড়ে মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় অনুপ্রাণিত করছে। বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ, প্রায় ১,৮০০ প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ এবং ১২০টিরও বেশি গবেষণাপত্রের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য নিসর্গ পুরস্কার পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান। প্রাকৃতিক কৃষি চর্চা, দেশীয় বীজ ও কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং টেকসই কৃষি ও কৃষিভিত্তিক পর্যটনের সফল মডেল গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ জীববৈচিত্র্য পুরষ্কার পেয়েছে প্রাণ বৈচিত্র্য খামার। দুই দশক ধরে ৩০ হাজারেরও বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ এবং রংপুর অঞ্চলে তৃণমূল পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বৃক্ষসখা সম্মাননা পেয়েছেন মো. বাদশা মিয়া। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টেকসই কৃষি, ছাদবাগান, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী অ্যাগ্রো-ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ সবুজ সারথী সম্মাননা পেয়েছেন উম্মে কুলসুম পপি। 

বিজ্ঞান ও ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহারের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান, বিশেষ করে ‘ট্রি সেনসাস ২০২৫’ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য নবীন নিসর্গী সম্মাননা পেয়েছেন সুমাইয়া মারিয়ম। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রবালপ্রাচীর গবেষণা এবং বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি বিকাশে অগ্রণী অবদানের পাশাপাশি দেশের নথিভুক্ত সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৪৭৫ থেকে ৭৪০-এ উন্নীত করার স্বীকৃতিস্বরূপ পরিবেশ কীর্তিমান সম্মাননা পেয়েছেন অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবিব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “প্রকৃতি সংরক্ষণ এখন আর কোনো বিকল্প নয়; এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। 

আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা প্রমাণ করেছেন, একজন মানুষের নিষ্ঠা ও উদ্যোগও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। প্রকৃতি রক্ষার এই প্রচেষ্টা সমাজজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাজমা মোবারেক বলেন, “টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা দেখিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগও জাতীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “দায়িত্বশীল ব্যাংকিং আমাদের কাছে শুধু আর্থিক সেবা প্রদানের বিষয় নয়; এটি মানুষ, সমাজ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করার অঙ্গীকার। ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক’-এর মাধ্যমে আমরা সেই মানুষদের সম্মান জানাচ্ছি, যাঁরা তাঁদের কাজের মাধ্যমে একটি সবুজ, টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন।” 

তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন বলেন, “দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক শুধু একটি সম্মাননা নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণে নিবেদিত মানুষদের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।” ২০২৫ সালে প্রবর্তিত ব্র্যাক ব্যাংক-তরুপল্লব দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করে। গত বছর এই দুই প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি সংরক্ষণে অসাধারণ অবদানের জন্য চারজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করে।

কালের সমাজ/কে.পি

অর্থনীতি বিভাগের আরো খবর

Link copied!