বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে নাটকীয় বিদায়ের পর রেফারির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেননি মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। তবে ম্যাচ শেষে তার সংযত প্রতিক্রিয়াতেই ফুটে উঠেছে রেফারিং নিয়ে গভীর অসন্তোষ। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হারতে হওয়ায় হতাশা লুকাননি এই তারকা ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে সালাহ বলেন, ‘প্রথমেই বলব, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছা। ম্যাচের ভাগ্য ও ফলাফলও সেটাই ছিল। প্রথমার্ধে আমরা দারুণ খেলেছি। দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটা সময়ও ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।’
তার মতে, নিজেদের কিছু ছোটখাটো ভুল যেমন ছিল, তেমনি ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। তবে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কে জড়াতে চাননি তিনি।
‘রেফারিং নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। সবাই দেখেছে কী হয়েছে। আমার আর কিছু বলার নেই,’—সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সালাহ।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইঙ্গিত দেন, অন্তত দুটি সিদ্ধান্ত মিসরের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। তার ভাষায়, ‘আমাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছে। এরপর একটি পরিষ্কার পেনাল্টিও আমরা পাইনি। সেই ঘটনার পরই তারা পাল্টা আক্রমণে গোল করে। এমন মুহূর্তগুলোই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।’
বিদায়ের হতাশার মাঝেও দলের লড়াকু মানসিকতায় সন্তুষ্ট ছিলেন মিসরের কোচ। সেই বার্তাও তুলে ধরেন অধিনায়ক। ‘কোচ আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন আমরা আরও অনেক দূর যাই। কিন্তু আল্লাহ যা চেয়েছেন, সেটাই হয়েছে। এই বিশ্বকাপে আমরা যা অর্জন করেছি, সেটাকে ভিত্তি করেই সামনে এগিয়ে যাব। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যৎ আরও ভালো হবে।’
ম্যাচের একপর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। কিন্তু শেষ দিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আর্জেন্টিনা। টানা তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হয় সালাহদের।
কালের সমাজ/এসআর

