ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস

মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ উদ্ধার অভিযান চলছে

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | জুলাই ৮, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ উদ্ধার অভিযান চলছে
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মহিলা মাদ্রাসা মাটিচাপা পড়ে বহু শিশু ছাত্রী আটকা পড়ে : ছবি সংগ্রহ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মহিলা মাদ্রাসা মাটিচাপা পড়ে বহু শিশু ছাত্রী আটকা পড়ে : ছবি সংগ্রহ

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মাদ্রাসার ওপর পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১৪ জনকে। এর মধ্যে ছয়জন চিকিৎসাধীন।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ  এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও ১৪ জনকে। এর মধ্যে ছয়জন চিকিৎসাধীন। 

এছাড়া এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন।

উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু ও একজন শিক্ষক রয়েছেন। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা যান। এর মধ্যে ক্যাম্প-৩-এর জিকে (GK) হাসপাতালে দুইজন, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি (IRC) হাসপাতালে একজন এবং ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়।

আহত ৬ জনের মধ্যে ক্যাম্প-৩-এর আইওএম হাসপাতালে ৩ জন, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালে ২ জন এবং ক্যাম্প-২ ওয়েস্টের আইওএম হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া নিহতরা হলেন,  ব্লক এ-১১-এর রাশিদা বেগম (১৩), ব্লক এফ-১-এর উম্মে নেজাতুল (১৩), ব্লক এফ-১-এর সালমা (১২) এবং ব্লক এ-৮-এর উমাইসা বিবি (১৩)। বাকি নিহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

আহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে আসরা (৯), বেগম জান (১৫) ও ফারেসা বিবি (১২)-এর। অন্যদের পরিচয়  জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসার ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৩০ জন শিশু কোরআন শিক্ষা ও পাঠগ্রহণে অংশ নিচ্ছিল। হঠাৎ পাহাড়ধসে ভবনটি মাটিচাপা পড়ে গেলে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, এপিবিএন, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর আগে গত ৬ জুলাই রাতেও পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের প্রাণহানি ঘটে।

কালের সমাজ/এএইচবি

 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!