গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ব্যস্ততম অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তায় তীব্র গণপরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে `তাকওয়া পরিবহন` প্রবেশ বন্ধ এবং মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার পর থেকেই এই অভূতপূর্ব সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
রোদ-বৃষ্টিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা
সরেজমিনে মাওনা চৌরাস্তা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কে গণপরিবহন না পেয়ে তীব্র রোদ আর বৃষ্টির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পোশাক কারখানার শ্রমিক এবং সাধারণ কর্মজীবীদের। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত হতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে তাদের নিয়মিত পড়াশোনা।
এই তীব্র গণপরিবহন সংকটকে পুঁজি করে স্থানীয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা মেতে উঠেছে প্রকাশ্য ভাড়া নৈরাজ্যে। যাত্রীদের নিরুপায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে তারা এক প্রকার জমিদারি ভাব নিয়ে বসে থাকছে এবং স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়তি ভাড়া দাবি করছে। সাধারণ মধ্যবিত্ত, নিম্নআয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রতিদিন এই চড়া ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে।
ভোক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য,আগে যে পথে ১৫-২০ টাকায় যেতাম, এখন সিএনজিওয়ালারা সেখানে ৫০-৬০ টাকা চাচ্ছে। টাকা বেশি দিলেও সহজে গাড়ি পাওয়া যায় না। আমাদের পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে, এভাবে প্রতিদিন কলেজে যাওয়া অসম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে হঠাৎ এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত জনভোগান্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো বিকল্প বা টেকসই ব্যবস্থা ছাড়া শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না।
প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগীদের ৩ দফা দাবি, ১. বিআরটিসি (BRTC) বাস সার্ভিস মাওনা চৌরাস্তা থেকে আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে অবিলম্বে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, সুলভ ও নিরাপদ বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।২. সুশৃঙ্খল ফিডার সার্ভিস: নির্ধারিত ভাড়ায় এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অধীনে লেগুনা বা হিউম্যান হলারের মতো বিকল্প হালকা যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হোক।৩. ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ: সিএনজি অটোরিকশাগুলোর জন্য দ্রুত নির্দিষ্ট ‘ভাড়ার তালিকা’ (Fare Chart) নির্ধারণ করতে হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) পরিচালনা করতে হবে।
মাওনা চৌরাস্তার সার্বিক সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে অবিলম্বে কার্যকর বিকল্প যানবাহন যুক্ত করা এখন আর কোনো সাধারণ অনুরোধ নয়—এটি এখন এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের বাঁচা-মরার এবং সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এই জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী মহল।
কালের সমাজ/কে.পি

