যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শনিবার সকাল থেকেই রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মসাল্লা প্রাঙ্গণে লাখো শোকাহত মানুষের ঢল নামে। আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয় বলে জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা।
ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে হাজারো মানুষ সারিতে দাঁড়িয়েছেন। দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শোক ও শেষশ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন ইরানিরা। আজ শনিবার সকাল ছয়টার দিকে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
গত শুক্রবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। টানা সাত দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল তেহরানে বিদেশি নেতাদের বেশির ভাগই খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
রোববার তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের প্রয়াত কয়েকজন সদস্যের প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।
ইরানের কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে তারা আশা করছে।
গতকাল সন্ধ্যা থেকেই বহু মানুষ ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। আজ সকাল নাগাদ সেটা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ছয়টা থেকে জনসাধারণের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের মূল ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে।
শ্রদ্ধা জানাতে এসে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়ানো সোমায়ি হামেদি নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকে শেষবিদায় জানাতে চাই। তাই এভাবে অপেক্ষা করাটা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক কিংবা কঠিন কিছু নয়।
এএফপির খবরে বলা হয়, ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তেহরানে জড়ো হতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশাল গ্র্যান্ড মসাল্লা কমপ্লেক্সের মূল প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের সড়ক শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং খামেনির প্রতিকৃতি। তারা স্লোগান ও দোয়ার মধ্য দিয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এএফপির আরেক সাংবাদিক জানান, সড়ক নিয়ন্ত্রণ ও যানজটের কারণে অনেক মানুষ কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে গ্র্যান্ড মসাল্লায় পৌঁছান, যাতে তারা শেষবারের মতো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। বিপুল জনসমাগমের মধ্যেও অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর ছিল।
কালের সমাজ/এএইচবি

