ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস নদী ভরাট ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রশাসনের

আমিনুল ইসলাম আহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | জুলাই ৪, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস নদী ভরাট ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রশাসনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদী ভরাটের অভিযোগে এবার আলোচনায় এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সাবেক জেলা আহ্বায়ক আজিজুর রহমান লিটন। নিজের মালিকানাধীন জমির দাবি তুলে নদীসংলগ্ন এলাকায় বালু ফেলে ভরাটের কাজ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে মেড্ডা শ্মশানঘাটের পূর্ব পাশে, সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের উত্তরাংশে তিতাস নদীর তীরসংলগ্ন এলাকায় গত প্রায় এক মাস ধরে ভরাট কার্যক্রম চলছে। প্রথমে এক্সকাভেটর দিয়ে নদীর পাড় ও সংলগ্ন নিচু ভূমি উঁচু করা হয়। পরে গত চার দিন ধরে বাল্কহেডে করে মেঘনা নদী থেকে বালু এনে নিয়মিতভাবে ফেলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে নদী ও জলাশয় সুরক্ষায় কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘ঢেউ’-এর আহ্বায়ক সোহেল আহাদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসনের নীরবতা ও উদাসীনতার কারণে তিতাস নদী দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে একসময় তিতাস শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। তিতাসসহ জেলার ছোট নদীগুলো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির সাবেক জেলা আহ্বায়ক আজিজুর রহমান লিটন বলেন, “নদী ভরাট করা হচ্ছে না। নদীর পাড়ের জমিটি আমার নিজস্ব। আমার জমির ভেতরে, নদী থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরে বালু ফেলা হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এলাকাটি বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় হওয়ায় সেখানে ভবিষ্যতে শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে।

তবে নদীর তীরবর্তী জমি ভরাট বা সেখানে শিল্পকারখানা স্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো সরকারি দপ্তরের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভৈরব-আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মো. নাদিম হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূইয়া বলেন, “বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, “নদী ভরাটের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত খোঁজ নিয়ে ভরাট কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!