ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান উপ-পরিচালকের

আমিনুল ইসলাম আহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | জুলাই ৪, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান উপ-পরিচালকের

মাদক নির্মূল ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলার নয়টি উপজেলায় ব্যাপক অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। একই সময়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৩২১টি অভিযান, ২২২টি মামলা এবং ২৩৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের ছয় মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২২৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৭২টি, মার্চে ২০২টি, এপ্রিলে ২০৭টি, মে মাসে ২৫১টি এবং জুনে ২৬৬টি অভিযান পরিচালিত হয়।
এসব অভিযানে জানুয়ারিতে ৪৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০টি, মার্চে ৩৬টি, এপ্রিলে ৩৩টি, মে মাসে ৩৭টি এবং জুনে ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়। মোট মামলার সংখ্যা ২২২টি। একই সময়ে ২৩৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে মোট ৪১৭ দশমিক ৮৩৮ কেজি গাঁজা, ১৫ হাজার ৪৩৫ পিস ইয়াবা, ১৬ লিটার ১০০ মিলিলিটার চোলাই মদ, ২৮ বোতল এসকাফ, ৭ বোতল বিয়ার এবং ৫ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ২টি সিএনজি, ২টি পিকআপ, ১টি মাইক্রোবাস, ১১টি মোবাইল ফোন, ২টি সিসি ক্যামেরা এবং ৬৬ হাজার টাকা নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিয়েছে অধিদপ্তর। ছয় মাসে জেলার নয়টি উপজেলায় ১টি মাদকবিরোধী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ৪টি বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ১০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, ৮২টি পথসভা, ২টি র?্যালি, ২টি সমাবেশ, ১টি কর্মশালা, ১টি আলোচনা ও ইফতার মাহফিল, একাধিক জুমার নামাজপূর্ব আলোচনা এবং সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ৩টি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়া সাধারণ মানুষের মাঝে প্রায় ৭ হাজার মাদকবিরোধী লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০০টি জ্যামিতি বক্স, ২০০টি খাতা, ২০০টি কলম, ২০০টি স্কেল এবং ১০টি স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক সাজেদুল হাছান বলেন, মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় অসংখ্য আলোচনা সভা, সেমিনার ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে তিন লাখ টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা। সে লক্ষ্যেই মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রতিটি উপজেলায় যদি একটি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিস স্থাপন করা যায়, তাহলে জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “ধরুন বাঞ্ছারামপুরে কোনো মাদক কারবারি মাদক নিয়ে প্রবেশ করেছে। সেখান থেকে কেউ আমাদের তথ্য দিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ওই কারবারি হয়তো নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চলে যাবে। তাই উপজেলা পর্যায়ে অফিস থাকলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”

পরিচালক আরও জানান, বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ে কর্মরত জনবল মাত্র ৩৩ জন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে সীমিত সংখ্যক মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়ে পুরো জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেলার প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও বিশেষ অভিযান একযোগে পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!