ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ‘অঘোষিত নায়ক’

স্পোর্টস ডেস্ক | জুলাই ৪, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ‘অঘোষিত নায়ক’

চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে দল হারলেও, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছেন দলটির গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। বিশেষ করে কেপ ভার্দে অধিনায়কের অসাধারণ সব সেভ এবং নেতৃত্বগুণ তাকে বানিয়ে ফেলেছে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ‘অঘোষিত নায়ক’।

৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক এবারের টুর্নামেন্টে নিজের জাত চিনিয়েছেন। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের পাশাপাশি সৌদি আরবকে রুখে দিয়েছেন তিনি। অভিজ্ঞতার চরম শিখরে থাকা ভোজিনিয়া এবার আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণভাগকে যেভাবে রুখে দিয়েছেন, তাতে মুগ্ধ হয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্ব। মজার বিষয় হলো, এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পরেও বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নেই এই অভিজ্ঞ তারকা।

বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোজিনিয়ার জন্য নতুন কোনো ক্লাবের দরজা খুব দ্রুতই খুলে যেতে পারে। গোলরক্ষক সংকটে থাকা ইউরোপের অনেক ক্লাবই এখন একজন অভিজ্ঞ এবং বিশ্বস্ত অভিভাবক খুঁজছে, যেখানে ভোজিনিয়া হতে পারেন সময়ের সেরা বাজি। তার রিফ্লেক্স এবং চাপের মুখে শান্ত থাকার সক্ষমতা যে কোনো বড় দলের জন্য বাড়তি পাওনা হতে পারে।

ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ভোজিনিয়া জানান, মাঠের ফলাফলের চেয়েও বড় এক অর্জন নিয়ে দেশে ফিরছেন তারা আর তা হলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক বলেন, ‘কেপ ভার্দে কোথায়, সেটা এখন পুরো বিশ্ব জানে। আমরা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছি যে, আমরাও ফুটবলটা খেলতে জানি।’

এবারের বিশ্বকাপে চমক জাগানো দলগুলোর একটি ছিল কেপ ভার্দে। প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়ে সবার প্রত্যাশাকে হার মানিয়েছে তারা। নিজের দলের প্রশংসা করে ভোজিনিয়া বলেন, ‘অনেকেই ভেবেছিল আর্জেন্টিনা হয়তো সহজেই জিতে যাবে। কিন্তু নিজেদের উজাড় করে দিয়ে কেপ ভার্দেকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে জায়গা করে দিতে পেরে আমি ও আমার সতীর্থরা দারুণ গর্বিত।’

বিশ্বকাপের মঞ্চে একেবারেই নতুন হলেও নিজেদের নান্দনিক ফুটবল দিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে আফ্রিকান এই দলটি। নকআউট পর্বে উঠে আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছে তারা, ম্যাচ টেনে নিয়ে গিয়েছিল অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। অধিনায়কের মতে, দলের যা কিছু দেওয়ার ছিল, তার সবটুকুই নিংড়ে দিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। যারা এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছে, তাদের জন্য শুভকামনা।’

অধিনায়কের কথাগুলোই যেন পুরো টুর্নামেন্টে কেপ ভার্দের অংশগ্রহণের মূল সারাংশ। শুধু মাঠের ফুটবল দিয়েই চমকে দেয়নি, বিশ্বের বুকে নিজেদের দেশের ভাবমূর্তিও বদলে দিয়েছে দলটি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও নিজেদের প্রথম আসরেই সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কেপ ভার্দে। ভোজিনিয়ার মতে, তাদের সবচেয়ে বড় অর্জনটা তো হয়েই গেছে ‘আজ সবাই জানে, কেপ ভার্দে কারা।’

এদিকে কেপ ভার্দের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম আরটিসির পরিচালক ও সাংবাদিক মার্কোস ফনসেকা জানান, এই বিশ্বকাপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি ভোজিনিয়ার মতো খেলোয়াড়দের জন্য নতুন একটি দুয়ার উন্মোচন করেছে। তার মতে, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি দেশের পর্যটন ও বিনিয়োগের সুযোগ যেমন বাড়িয়েছেন, তেমনি নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছেন।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ভোজিনিয়ার এই লড়াই এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্য তাকে অনেক বড় ক্লাবের রাডারে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, খুব দ্রুতই কোনো ইউরোপীয় ক্লাবের জার্সি গায়ে তাকে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে দেখা যায় কি না।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!