ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন মিসর কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক | জুলাই ৪, ২০২৬, ০৬:২১ এএম বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন মিসর কোচ

টাইব্রেকার নাটকে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মিসর। তবে ডালাস স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক এই জয়ের পর মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে আলোচনায় মিসরীয় কোচ হোসাম হাসান। 

ম্যাচ শেষ হতেই মাঠের মধ্যে ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ধরেন এই কিংবদন্তি। পরে নিজের কাঁধে মিসর ও ফিলিস্তিনের দুই পতাকা জড়িয়ে আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি করেন তিনি।

ঐতিহাসিক এই কোয়ালিফিকেশন ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের প্রতি উৎসর্গ করেছেন মিসরীয় বস।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‍‍`এই জয় মিসরীয়, আরব এবং আফ্রিকান ফুটবলের জন্য একটি বড় মাইলফলক।

আমরা দেখেছি মিসরের এই জয়ে ফিলিস্তিনের মানুষ কতটা আনন্দিত হয়েছে। আল্লাহ তাদের শক্তি দিন। আমি এই ঐতিহাসিক জয়টি মিসরের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের বীর জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।‍‍`

১২০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারের আগে মিসর শিবিরে দেখা যায় এক অভিনব দৃশ্য। অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিক তার দুর্দান্ত খেলতে থাকা ২২ বছর বয়সী গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচকে তুলে অভিজ্ঞ ম্যাথু রায়ানের ওপর বাজি ধরেন। এই পরিবর্তনের মাঝেই মিসরের টেকনিক্যাল স্টাফ ও খেলোয়াড়রা ল্যাপটপ নিয়ে বসে যান। স্প্যানিশ ক্লাব লেভান্তের হয়ে ম্যাথু রায়ানের পেনাল্টি ঠেকানোর অতীত রেকর্ড ও তার দুর্বলতা দ্রুত ল্যাপটপে দেখে নেন মিসরের পেনাল্টি টেকাররা।

এই চটজলদি কৌশল কাজে দেয় শতভাগ। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শট নিতে এসে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হ্যারি শুটার বারের ওপর দিয়ে বল মারেন। এরপর মিসরের সাবের ও রাবিয়া গোল করার পর মাঠে প্রায় অদৃশ্য থাকা চোটাক্রান্ত মোহামেদ সালাহ এক দুর্দান্ত ‍‍`পানেনকা‍‍` শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন।

অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ শট নিতে আসা বার্সেলোনার রাডারে থাকা ১৮ বছর বয়সী তরুণ হ্যারিংটনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে মিসরের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। আবদেল মাগিদ শেষ শটে গোল করতেই ৪-২ ব্যবধানে উল্লাসে মাতে ফারাওরা। ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের টিম ক্রুলের মতো গোলকিপার বদলের যে বাজি অস্ট্রেলিয়া ধরেছিল, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের মান অবশ্য খুব একটা আকর্ষণীয় ছিল না। উরুর ইনজুরির কারণে লিভারপুল তারকা সালাহ শতভাগ ফিট ছিলেন না, যার প্রভাব মাঠে স্পষ্ট দেখা গেছে। তবে ম্যাচের ১২ মিনিটেই পরিকল্পিত এক ফ্রি-কিক থেকে হাফেজের ক্রসে ওঁত পেতে থাকা ইমান আশুর নিখুঁত হেডে মিসরকে এগিয়ে নেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ গোলরক্ষককে একা পেয়েও ব্যবধান দ্বিগুণ করতে ব্যর্থ হন। এর কিছুক্ষণ পর মাঠের মধ্যে প্রতিপক্ষের মেটকাফের সাথে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগে কিছুক্ষণের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। মাঠে সুস্থ হয়ে ফিরলেও বিকেলটা ভালো যায়নি হানির। ৫৫ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার ও‍‍`নিলের এক ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে (আত্মঘাতী গোল) বসেন তিনি।

নির্ধারিত সময়ের যোগ করা ৪৮ মিনিটে সালাহর এক দুর্দান্ত ক্রস থেকে রাবিয়া শট নিলেও অস্ট্রেলিয়ার তরুণ গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ অবিশ্বাস্য এক সেভ করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান। অতিরিক্ত সময়ে জিকোর বদলি নামা হাইসেম হাসান ও সালাহর জুটিতে মিসর দুর্দান্ত আক্রমণ করলেও গোল পায়নি।

১২০ মিনিটের ক্লান্তিকর লড়াই শেষে বুদ্ধিদীপ্ত টাইব্রেকার জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কাটল মিসর। এখন শেষ ষোলোর মঞ্চে ফারাওরা মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!