ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

শেষ ষোলো নিশ্চিত, তবুও যে দুশ্চিন্তার স্কালোনির

স্পোর্টস ডেস্ক | জুলাই ৪, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম শেষ ষোলো নিশ্চিত, তবুও যে দুশ্চিন্তার স্কালোনির

কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২’র নাটকীয় লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর পথে এগিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে জয় উদ্‌যাপনের চেয়ে ম্যাচ শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনির সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা হয়ে উঠেছে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা। মায়ামির তীব্র গরম ও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচের ধকলের কারণে দলের একাধিক ফুটবলার ম্যাচের শেষদিকে ক্র্যাম্প ও চোটের সমস্যায় পড়েন।

ম্যাচ চলাকালেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ পরিবর্তনটি করতে বাধ্য হন স্কালোনি। ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা নিজেই পরিবর্তনের অনুরোধ জানান। মাঠে বসে হতাশায় মাটিতে ঘুষি মারতে দেখা যায় তাকে। একই সময়ে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজও বাঁ পায়ের কাফে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। কিন্তু বদলির সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে খেলা চালিয়ে যেতে হয়। অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে আবার বদলি হিসেবে নামা নিকোলাস গঞ্জালেস বাঁ গোড়ালিতে চোট পেয়ে কয়েক মুহূর্ত মাঠেই শুয়ে ছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ করতে সক্ষম হন তিনি।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি জানান, এনজো ফার্নান্দেজের সমস্যা গুরুতর নয়। তার ভাষায়, শেষদিকে এনজোর ক্র্যাম্প হয়েছিল, তবে পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। ম্যাচ শেষ হওয়ার সময়ও তার পায়ে ক্র্যাম্প ছিল, কিন্তু তখন আর কোনো পরিবর্তনের সুযোগ অবশিষ্ট ছিল না।

পরে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এনজো নিজেও জানান, ম্যাচের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ মিনিটের মধ্যে তার ক্র্যাম্প শুরু হয়। তবু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলতে হলে বাড়তি কিছু দেয়ার মানসিকতাই তাকে মাঠে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। ছোটবেলা থেকে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার যে স্বপ্ন দেখেছেন, সেটিই তাকে শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান এই মিডফিল্ডার।

ফাকুন্দো মেদিনার শারীরিক অবস্থা নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, মেদিনাকে এই ম্যাচে আক্রমণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে হয়েছে। আগে তিনি সাধারণত তৃতীয় সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেলতেন এবং এতটা সামনে উঠে খেলতে অভ্যস্ত ছিলেন না। ফলে ম্যাচের শেষদিকে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে তার ক্র্যাম্প হয়। তবে বর্তমানে তিনি ভালো আছেন বলেই জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। একই সঙ্গে বদলি হিসেবে নেমে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন স্কালোনি। তার মতে, তালিয়াফিকো মাঠে নেমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং প্রমাণ করেছেন, প্রয়োজন হলে শুরুর একাদশেও খেলার মতো প্রস্তুত তিনি।

কঠিন পরিস্থিতিতেও দলের মানসিক দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্কালোনি। তার মতে, খেলোয়াড়রা যখন হৃদয় উজাড় করে লড়াই করে, তখন অনেক সময় শারীরিক ক্লান্তিকেও অতিক্রম করা সম্ভব হয়। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তার দল সেই লড়াকু মানসিকতারই প্রমাণ দিয়েছে। তবে ম্যাচে যেসব ভুল হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী ম্যাচের আগে অবশ্যই শুধরে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে জয় ও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দের মাঝেও বিশ্বকাপের সূচি নিয়ে অসন্তোষ লুকাননি আর্জেন্টিনা কোচ। তার অভিযোগ, নকআউট পর্বে খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বেশি বিশ্রামের প্রয়োজন থাকলেও বাস্তবে সবচেয়ে কম সময়ই পাচ্ছে দলগুলো।

স্কালোনি বলেন, আগের ম্যাচের আগে তার দল ছয় দিনের বিশ্রাম পেয়েছিল, অথচ এবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগে হাতে থাকছে মাত্র তিন দিন। টুর্নামেন্ট যত এগিয়ে যায়, খেলোয়াড়দের পুনরুদ্ধারের জন্য তত বেশি সময় দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। বর্তমান সূচিতে সেটির উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা তার কাছে বোধগম্য নয়।

কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাই জয় যেমন স্বস্তি এনে দিয়েছে, তেমনি খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এখন আর্জেন্টিনা শিবিরের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক দিনে দলের চিকিৎসক ও ফিটনেস স্টাফদের ওপরই নির্ভর করবে এনজো ফার্নান্দেজ, ফাকুন্দো মেদিনা ও নিকোলাস গঞ্জালেস কতটা দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারেন।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!