ফরিদপুরের নগরকান্দায় রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দাফনের প্রায় এক বছর চার মাস পর কবর থেকে মামা-ভাগিনার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হলেও প্রায় এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।
নিহতরা হলেন, নগরকান্দা উপজেলার তালমা চরপাড়া গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে মোখলেছুর রহমান মিয়া (৪৫) এবং উপজেলার জগদিয়া বালিয়া গ্রামের সিহাব উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন (১১)। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগিনা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল সকালে মোখলেছুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে তালমা বাজারের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে স্যালাইন ও ওষুধ দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই দিন রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তিনি মারা যান।
অন্যদিকে, ঘটনার তিন দিন আগে নানা বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরা নাসির উদ্দিনও ওই দিন বিকেলে একই ধরনের উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরদিন সকালে তার শরীরেও চামড়ার নিচে রক্ত জমাট বাঁধার মতো কালো দাগ দেখা দিলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ এপ্রিল সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
পরে দুইজনের মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নগরকান্দা সিআর মামলা নং-১৯৮/২৪ (তারিখ: ৯ জুন ২০২৬) দায়ের হলে আদালতের নির্দেশে দাফনের প্রায় এক বছর চার মাস পর দুইজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় সিআইডি। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন। তবে লাশ উত্তোলনের প্রায় এক বছর পার হলেও এখনো আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, “দুইজনের মরদেহ থেকে সংগৃহীত ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালীর পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এখনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট হাতে পেলেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম (৫২) অভিযোগ করেন, তার ছেলে মোখলেছুর রহমানের প্রথম স্ত্রী সুমী বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরবর্তীতে মোখলেছুর রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করলে বিরোধ আরও তীব্র হয়। তার অভিযোগ, ঘটনার আগে পারিবারিক বিভিন্ন ঘটনার জেরে পরিকল্পিতভাবে মোখলেছুর রহমান ও তার নাতি নাসির উদ্দিনকে খাবারের সঙ্গে ধীরগতির বিষ বা ক্ষতিকর কোনো পদার্থ মিশিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সুমী বেগম ও তার বাবা আব্দুর রহিম মাতুব্বরকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি আমার ছেলে ও নাতির হত্যার বিচার চাই। আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।” নিহত নাসির উদ্দিনের মা নাজমা বেগম বলেন, “আমার ভাই মোখলেছুর রহমান ও আমার ছেলে নাসির উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
তবে মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। মামলার তদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কালের সমাজ/কে.পি

