ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির গোল মানেই এক অনন্য শিল্প। বল জালে জড়ানোর পর আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই পরিচিত দৃশ্য—দুই হাতের তর্জনী আকাশের দিকে তুলে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা। কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে এটি শুধু গোল উদযাপন হলেও, এর পেছনে রয়েছে এক গভীর আবেগ ও ভালোবাসার গল্প। মেসি এই বিশেষ মুহূর্তটি উৎসর্গ করেন তার নানি, সেলিয়া অলিভেরা কুচ্চিত্তিনিকে।
মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা ও অভিভাবক ছিলেন তার নানি। রোজারিওর গ্রান্দোলি ক্লাবে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মেসির ফুটবলের পথে পা রাখা মূলত নানিরই হাত ধরে। বড়দের এক ম্যাচে খেলোয়াড়ের ঘাটতি থাকায় ছোট্ট লিওকে মাঠে নামানোর জন্য কোচ সালভাদর আপারিসিওকে জোরাজুরি করেছিলেন নানি সেলিয়াই। প্রথমে কোচ রাজি না হলেও, নাতির প্রতিভায় অটুট বিশ্বাস ছিল তার।

নানির সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রেখে সেদিনই মাঠে নিজের ঝলক দেখিয়েছিলেন ক্ষুদে মেসি। ম্যাচে দুটি গোল করে সবাইকে চমকে দেন তিনি। সেদিন থেকেই যেন শুরু হয় এক কিংবদন্তির যাত্রা। পরে এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেও জানিয়েছিলেন, ওই ঘটনার পর তার নানি কোচকে বলেছিলেন, ‘মেসির জন্য বুট কিনে দিন, সামনের সপ্তাহ থেকেই আমি ওকে অনুশীলনে নিয়ে আসব।’
নিজের সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও মেসি ভোলেননি সেই শুরুর দিনগুলো। ক্যারিয়ারে ৯০০-এর বেশি গোল, অসংখ্য ব্যালন ডি’অর এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ—সব অর্জনের মুহূর্তেই নানিকে স্মরণ করেন তিনি। আরেক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই জানিয়েছেন, প্রতিটি গোল ও জয়ের মুহূর্ত তিনি তার নানিকেই উৎসর্গ করেন। কারণ, তিনিই প্রথম বুঝেছিলেন ছোট্ট লিওর ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিশ্বজয়ী প্রতিভা।

সেদিনের সেই ছোট্ট মেসি এখন ৩৯ বছরের বুড়ো। কিন্তু বয়স বাড়লেও বল পায়ে এখনও যেন আগের মতোই ক্ষুরাধার তিনি। উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপেও যার বড় প্রমাণ দিয়ে চলেছেন, এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা একের পর এক রেকর্ড নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। সর্বোচ্চ ৮ গোল করে দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে আরেকটি শিরোপার স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছেন।
তর্জনী উঁচিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা মেসির সেই ভঙ্গি যেন আজও জানান দেয়—আজকের এই কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে সেলিয়া অলিভেরা কুচ্চিত্তিনির সেই অসীম আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসা।
কালের সমাজ/এসআর

