কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের কাকৈরতলা পূর্ব উত্তরপাড়া থেকে বড় সাঙ্গীশ্বর পর্যন্ত প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কাদা, বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার কারণে সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাকৈরতলা পূর্ব উত্তরপাড়া থেকে বড় সাঙ্গীশ্বর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কোথাও কোথাও কাদা এতটাই বেড়েছে যে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকুরিজীবী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলেও দেখা দিচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ১৭ বছর ধরে সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা বারবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লি এবং অসুস্থ রোগীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়।
স্থানীয় পথচারী আমান উল্লাহ, তাজুল ইসলাম ও বাবুল মোল্লা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সড়কটি অবহেলিত। বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদায় ভরে যায়। আমরা ঠিকমতো মসজিদে যেতে পারি না, শিশুদের স্কুল-মাদ্রাসায় পাঠাতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কাকৈরতলা ও বড় সাঙ্গীশ্বর মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস। আমাদের একটাই দাবি—সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ করা হোক। এলাকাবাসী জানান, সড়কটি সংস্কার হলে দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণেও ব্যাপক সুবিধা হবে।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম শিকদার বলেন, "এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পেলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবু রায়হান বলেন,লিখিত আবেদন পেলে সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। চলতি অর্থবছরেই সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

