ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ঢেঁড়স চাষ করে বেকারত্ব ঘুঁচিয়েছেন শিবপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের যুবক সুজন মিয়া। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে তিনি এখন পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁর সাফল্যে এলাকার আরও অনেকেই স্বল্প সময় ও অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ঢেঁড়স চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়- সুজন নিজেই জমি থেকে ঢেঁড়স উত্তোলন করছেন। আলাপ কালে সুজন বলেন- তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। বাবা অসুস্থ্য হওয়ায় চাকরি ছেড়ে চলে আসেন বাড়িতে।
এরপর আর কোন ভাল চাকরি না পাওয়ায় বাড়ীর পাশে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন ঢেঁড়সের (সবজি) চাষ। স্বল্প সময়ে এই ঢেঁড়স চাষ করে বেশ লাভবানও হয়েছেন তিনি। সুজন বলেন-"মাটি বেশ উর্বর থাকায় উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে। তার এক বিঘা জমিতে ঢেঁড়স চাষ করতে ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার টাকার ঢেঁড়স বিক্রি করি। একদিন পরপর জমি থেকে ঢেঁড়স উত্তোলন করতে হয়। এতে তেমন কোন শ্রমিকের (লেবার) প্রয়োজন হয় না। জমি থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যায়।" তিনি আরো বলেন- "আমি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক্রমে বারি উদ্ভাবিত জাত `বারি ঢেঁড়স-১` চাষ করেছি। বাজারে ঢেঁড়সের দাম ভালো থাকায় বেশ লাভবানও হচ্ছি। এ বছর ঢেঁড়সের পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম থাকার ফলে খরচও কম হয়েছে।"
উল্লেখ্য বারি ঢেঁড়স-১ হলো সারা বছর চাষ উপযোগী সবজি। যা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল ও ভাইরাস প্রতিরোধী জাত। এটি আকর্ষণীয় গাঢ় সবুজ রঙের, আলবিহীন এবং একর প্রতি ৭-১০ টন ফলন দেয়। চারা রোপণের মাত্র ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে প্রায় ৩৩ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি ও ১.৭ গ্রাম আঁশ থাকে।
এ ব্যাপারে নবীনগর ্জে্লাযি কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন- "এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঢেঁড়সে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। আর ঢেঁড়সের বিভিন্ন জাতের মধ্যে `বারি ঢেঁড়স-১` এর ফলন ভাল। এটা চাষ করা লাভ জনক। তবে বর্তমানে তার মত শিক্ষিত অনেক যুবকরাই এগিয়ে আসছে। আমরা কৃষি অফিস তাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করব।
কালের সমাজ/কে.পি

