আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের নাটকীয় পরাজয়ের ম্যাচে রেফারিং নিয়ে যে সমালোচনার বিরোধীতা করেছেন মিশরের সাবেক ফিফা রেফারি মোহাম্মদ আদেল। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, রেফারির সিদ্ধান্তগুলো ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
মিশরীয় সম্প্রচারমাধ্যম `টেন` -এর সাথে আলাপকালে সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারি মোহাম্মদ আদেল বলেন, মিশর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পরই মূলত রেফারিং নিয়ে এত বেশি আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে; তাই ম্যাচটিকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত।
আদেল বলেন, আসুন রেফারিংয়ের বিষয়টি যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করি। আমাদের পরাজয়ের কারণ রেফারি ছিলেন না। বরং তিনি চাইলে আমাদের বিরুদ্ধে আরও বেশি ফাউল দিতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি। পরাজয়ের পরই কেবল আমরা তার সিদ্ধান্তগুলোর দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেছি।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের ৩-২ ব্যবধানে বিতর্কিত পরাজয়ের পর সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষোভের মধ্যেই তার এই মন্তব্য এল; ম্যাচটিতে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো ছিল বিশেষ করে বিতর্কিত। মিসরীয় সমর্থক ও ফুটবল সংশ্লিষ্টরা রেফারির নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন- যার মধ্যে ছিল ভিএআরপর্যালোচনার পর মোস্তফা জিকোর গোল বাতিল করা এবং ম্যাচে মিসরকে পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
তবে আদেল মনে করেন, এসব সমালোচনার আড়ালে ম্যাচের সামগ্রিক চিত্রটি ঢাকা পড়ে গেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রেফারির অধিকাংশ সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টিকারী ঘটনাগুলোতে রেফারিংয়ে বড় কোনো ভুল ছিল- এমন ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
আদেলের মতে, ম্যাচের ফলাফলটি রেফারির পারফরম্যান্সের চেয়ে বরং খেলার গতিপ্রকৃতিকেই প্রতিফলিত করেছে।
তার এই মূল্যায়ন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানের মতামতের সম্পূর্ণ বিপরীত। ম্যাচ শেষে হাসান অভিযোগ করেছিলেন যে তার দলকে ন্যায্য আচরণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন সাবেক খেলোয়াড়, কোচ ও বিশ্লেষকও দাবি করেছিলেন যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো `ফারাও`দের (মিসরীয় দলের ডাকনাম) বিপক্ষে গিয়েছিল।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ায় মিসরের বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি ঘটে; এর মধ্য দিয়ে `ফারাও`দের অন্যতম স্মরণীয় এক টুর্নামেন্ট অভিযানের ইতি ঘটে। সূত্র : moroccoworldnews
কালের সমাজ/এসআর

