ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ময়মনসিংহে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ-হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড কিশোরের কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ | জুলাই ৯, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম ময়মনসিংহে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ-হত্যা মামলায় ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড কিশোরের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহের  ‎৫ বছরের শিশু নিছামনিকে  সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীর পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত ‎একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনার মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পৃথক আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

‎বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকারের আদালতে আসামি আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়ার (১৯) উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয় ‎আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।

‎এদিকে মামলার অপর অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফ মিয়া, যিনি দশম শ্রেণির ছাত্র, তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম.এল.বি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদের আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

‎পুলিশ জানায়, গত ১৪ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির পাশ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদের একটি বাঁকে তল্লাশি চালিয়ে স্থানীয় লোকজন নদীর তলদেশে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

‎সেদিন রাতেই দাফনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। এরপর দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

‎পরদিন ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও সন্দেহভাজন চার তরুণের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করলে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাদের ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

‎চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত শেষে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ২৩ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ১৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন এবং আসামিপক্ষে চারজন সাফাই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!