যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধের ১৩ মিনিটেই পেনাল্টি পেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আসে সেলেসাওদের সামনে।
কিন্তু স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস। তার দুর্বল শটটি অনায়াসে ঠেকিয়ে দেন নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক অরিয়ান নিলান।
ব্রুনোর এই পেনাল্টি মিসের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা প্রশ্ন তুলছেন, দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের (ভিনি জুনিয়র) মতো তারকা থাকতে ব্রুনো কেন পেনাল্টি নিতে গেলেন? অনেকের মতে, এই পেনাল্টিটি ভিনিরই নেওয়া উচিত ছিল।
আবার পেনাল্টি স্পটে নেইমারের মতো নিখুঁত ফরোয়ার্ডের অভাবও বেশ ভালোভাবেই টের পেয়েছেন অনেক ব্রাজিল ভক্ত।
টাইব্রেকার বাদে, বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ব্রাজিলের পেনাল্টি মিসের ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
ব্রুনোর এই ব্যর্থতা সেলেসাওদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিরল তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি মিস করা চতুর্থ ব্রাজিলীয় ফুটবলার হলেন ব্রুনো।
এর আগে প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে কেবল তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছিল:
১৯৩৪ সাল (ওয়ালদেমার দে ব্রিতো): স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিল যখন ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে, তখন পেনাল্টি মিস করেন ব্রিতো। তার শটটি আটকে দেন স্প্যানিশ কিংবদন্তি গোলরক্ষক রিকার্দো জামোরা। ম্যাচটি ৩-১ ব্যবধানে হেরে সেবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল।
১৯৩৮ সাল (পাতেসকো): সুইডেনের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছিলেন পাতেসকো। অবশ্য সেই ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ব্রাজিল।
১৯৮৬ সাল (জিকো): ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত পেনাল্টি মিসের ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপে, ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু `সাদা পেলে` খ্যাত জিকোর শটটি রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক জোয়েল বাটস। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল।
১৯৮৬ সালে জিকোর সেই বিখ্যাত ভুলের দীর্ঘ ৪০ বছর পর, এই প্রথম বিশ্বকাপের মূল ম্যাচে কোনো ব্রাজিলীয় ফুটবলার পেনাল্টি মিস করলেন। ব্রুনোর এই ভুল ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে চার দশকের এক আক্ষেপকে নতুন করে জাগিয়ে তুলল।
কালের সমাজ/এসআর

