কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার মো. মমিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের রুমে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মমিনুল হকের অভিযোগ, সরকারি অফিস আদেশ অনুযায়ী ফুলবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্স থেকে সাত দিনের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে আসি। নির্ধারিত কক্ষ না থাকায় তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করছিলাম। এসময় হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ মো. এরশাদুল হক কক্ষে প্রবেশ করে আমার ভিডিও ধারণ শুরু করেন। ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে এরশাদুল হক নিজের জুতা ও পাশে থাকা চেয়ার ছুড়ে দেন। এতে আমিসহ অনান্যরা আহত হই। এসময় চিৎকার দিলে পাশের রুমে থাকা অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মোছাঃ ফৌজিয়া জানান, এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে অতীতেও সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি লঙ্ঘন, পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। পরিসংখ্যানবিদের কথা না শুনলে সহকর্মীদের শুনতে হয় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানসিক টর্চার। আর এ সবের পিছনে স্থানীয় সাংবাদিকের প্রভাব কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না। মুখ খুললে বদলি হতে হয় অন্য উপজেলায়। উর্ধতন কর্মকতারাও জিম্মি এই পরিসংখ্যানবিদের কাছে। ফলে মানসিক যন্ত্রনা সহ এ সব থেকে মুক্তি চায় হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
অভিযোগের বিষয়ে পরিসংখ্যানবিদ মো. এরশাদুল হক বলেন, পুরোনো কিছু ফাইল পর্যালোচনার কাজ চলছিল। সে কারণে আমি ভিডিও ধারণ করি। এ বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। পরে তত্ত্বাবধায়ক স্যার এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, ঘটনার পর উভয় পক্ষকে ডেকে কথা বলা হয়েছে। তারা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে বিষয়টির সমাধান করেছে। এর বাইরে আমি কিছু বলতে পাবো না।
কালের সমাজ/কে.পি

