ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

হালান্ডের জোড়া গোল, বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ৬, ২০২৬, ০৪:২৬ এএম হালান্ডের জোড়া গোল, বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।  প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। কিন্তু গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও লিড নিতে পারেনি তারা। তবে ম্যাচের ৭৯ ও ৯০ মিনিটে দুর্দান্ত দুই গোলে নরওয়েকে এগিয়ে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-নরওয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বলও পাঠিয়ে দিয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

দশম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। ভিএআরের মাধ্যমে ফাউল ঘোষণা করে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টি কিক নিতে আসেন ব্রুনো গুইমারেস। তার নেওয়া ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে সেলেসাওরা।

প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিস এবং দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে পরাজয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। 
দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম) নেইমার সান্ত্বনাসূচক একটি গোল করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।

বিগত ৩৬ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। এর আগে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

May be an image of soccer, football and text

ঐতিহাসিক এই পরাজয়ের পেছনে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কিছু ভুল সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখা হচ্ছে। প্রথমত, ম্যাচের আগে ব্রুনো গিমারেসকে দলের অফিসিয়াল পেনাল্টি টেকার হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল কোচিং স্টাফদের। 

দ্বিতীয়ত, ইনজুরিতে পড়া লুকাস পাকেতার বিকল্প বেছে নিতে গিয়ে আনচেলত্তি এমন এক কৌশল নেন, যা হাইতি, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে সফল হওয়া ব্রাজিলের চেনা ছন্দকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। 

পাকেতার অনুপস্থিতিতে আনচেলত্তি মাঝমাঠে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফ্ল্যামেঙ্গোর মিডফিল্ডার পাকেতার পজিশনে খেললেও, মূলত লেফট উইঙ্গার মার্তিনেল্লি মাঝমাঠে তার স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে ব্যর্থ হন।

মার্তিনেল্লি পাকেতার ভূমিকা পালনের চেষ্টা করলেও, মাঠের খেলায় ব্রাজিলকে মনে হচ্ছিল তারা সেই পুরনো ৪-২-৪ ফর্মেশনে খেলছে। ফলে দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বল পজিশন ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। আক্রমণভাগের কৌশল তখন মূলত দুই উইং দিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রায়ানের গতিভিত্তিক (ভার্টিকাল) খেলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই কৌশলে কিছু ভালো সুযোগ তৈরি হলেও, তার কোনোটিই গোলমুখে কাজে লাগানো যায়নি।

ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটে আক্রমণভাগে রায়ান বল কেড়ে নিয়ে মার্তিনেল্লিকে পাস দেন। মার্তিনেল্লি বক্সে থাকা কুনিয়ার উদ্দেশে বল বাড়ালে নরওয়ের ডিফেন্ডার আয়ার তাকে ফাউল করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রেফারি ইসমাইল এলফাত প্রথমে ফাউলটি এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে ভিএআর-এর সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে কোচিং স্টাফদের ভরসার পাত্র ব্রুনো গিমারেস অত্যন্ত দুর্বল শট নেন, যা অনায়াসেই রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরজান নালান্ড।

May be an image of football, soccer and text that says ‍‍`&Dan Dain E BRASIL BRFS 10 ROFIY‍‍`

পুরো ম্যাচজুড়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটির অন্যতম নায়ক ছিলেন এই গোলরক্ষক। পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস, মার্তিনেল্লি ও রায়ানের অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল নস্যাৎ করেন তিনি। এমনকি ম্যাচের ৮৫ মিনিটে (দ্বিতীয়ার্ধের ৪০ মিনিট) নরওয়ের এক ডিফেন্ডারের আত্মঘাতী শটও তার  হাতে লেগে পোস্টে গিয়ে প্রতিহত হয়।

গোলরক্ষক যখন নরওয়ের জার্সিতে উজ্জ্বল, তখন ব্রাজিলের পোস্টার বয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। দলের প্রধান তারকা হওয়া সত্ত্বেও পেনাল্টি নেওয়ার জন্য তাকে কেন বিবেচনা করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মাঠের বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভিনি আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তাকে বেশ নার্ভাস দেখাচ্ছিল। আক্রমণভাগে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে গ্রুপ পর্বের মতো দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।

Link copied!