সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ঘিরে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, রোগী পাঠানোর বিনিময়ে দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের মোটা অঙ্কের কমিশন দেওয়া হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর। বাড়ছে চিকিৎসা খরচ।
সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি কল রেকর্ডে এমনই অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। ওই কল রেকর্ডে শাহজাদপুর শিশু হাসপাতালকর্মচারী আ: মান্নান দাবি করেন, সোমবার( ৬ জুলাই)তিনি শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামের ১০ বছর বয়সী দিয়ামনি নামের এক রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাধন হাসপাতালে ডা. লিয়াকত আলীর কাছে পাঠান।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসক রোগীকে তিনটি প্যাথলজি পরীক্ষা করতে দেন। পরীক্ষাগুলোর মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৭০০ টাকা। পরে ২০০ টাকা ছাড় দিয়ে রোগীর কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। কল রেকর্ডে ওই ব্যক্তি বলেন, এই বিলের বিপরীতে তিনি কমিশন হিসেবে মাত্র ৭৮০ টাকা পেয়েছেন। তার কথায় অনুমান করা যায় এতে তিনি সন্তুষ্ট নন, আগে একই ধরনের রোগী পাঠালে তিনি বিলের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পেতেন। কিন্তু এবার কম কমিশন দেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, তার পাওনা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল।
মজার ব্যাপার হলো ঐ ব্যাক্তি বাধন হাসপাতালের মালিক হান্নানের কাছে ফোন করে নালিশ দেওয়ার পরিবর্তে ভুল করে অন্য লোকের কাছে ফোন করায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য ফাঁস হয়। পরে বাধন হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় দিয়ামনি নামের ঐ রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: লিয়াকত আলি।তিনটি টেস্ট দেন যার মুল্য নির্ধারণ হয় ২৭০০ টাকা। ২শ টাকা ছাড় দিয়ে ২৫০০ টাকা বিল নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, যদি রোগী পাঠানোর বিপরীতে এভাবে কমিশন দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থের বোঝা শেষ পর্যন্ত রোগীদেরই বহন করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কমিশনভিত্তিক চিকিৎসা সেবায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রোগীরা।
ঘটনার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা যায় যে, আ:মান্নান শাহজাদপুর শিশু হাসপাতাল ও মাতৃসদনে দীর্ঘদিন হলো কর্মরত আছেন। রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে বিনিময়ের কমিশন নেন তিনি । মুঠোফোনে কথা হয় শাহজাদপুর শিশু হাসপাতাল ও মাতৃসদনের স্টাফ পরিচয় দেওয়া আ: মান্নানের সাথে, রোগী ভাগিয়ে প্রথমে কমিশন বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করে। পরে তিনি ভুল স্বীকার করেন। মাঝে মাঝে রোগী অন্য জায়গায় দেখাই আর এই ভুল করবো না। এ বিষয়ে মুঠোফোনে বাধন হাসপাতালের মালিক মো: আব্দুল হান্নান প্রথমে কিছু জানে না বলেলেও প্রশ্নের মুখে পরেরম ঘটনা স্বীকার করেন। এমন কমিশন বাণিজ্য অবৈধ তাও স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাসুদ রানা বলেন, কমিশন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরো বলেন সরকারিভাবে প্যাথলজিক্যালর টেস্টের মুল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাধারণ জনগণের অভিমত টেস্ট ও কমিশন বাণিজ্য না করে টেস্টের মুল্য কমানোর তাগিদ সবার। প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টের সরকারি মুল্য নির্ধারণের দাবি করেছেন জনসাধারণ।
কালের সমাজ/ কে.পি

