ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

সড়ক, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি প্লাবিত: কক্সবাজারে দুর্ভোগ

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | জুলাই ৯, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম সড়ক, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি প্লাবিত: কক্সবাজারে দুর্ভোগ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং কৃষিজমি ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও মহেশখালীর বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ঈদগাঁও ও চকরিয়ার বিভিন্ন গ্রামে বাড়িঘরে কোমরসমান পানি প্রবেশ করায় মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বন্যার পানিতে গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও ছোট সেতুর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। একই সঙ্গে জেলার অভ্যন্তরীণ অনেক সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় দূরবর্তী এলাকার মানুষ বাজার, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বন্যার পানিতে আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও চাষযোগ্য জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় মৎস্যচাষিরা উদ্বিগ্ন। অনেক স্থানে চিংড়ি ও সাদা মাছের ঘের পানিতে উপচে পড়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতেও বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। কয়েকটি ক্যাম্পে ভূমিধসের ঘটনায় আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে। 

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা সরবরাহ করা হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বলেন, “বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে এবং মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে কক্সবাজারে নতুন করে জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ খাবার পানি, চিকিৎসাসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!