কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী টাইফুনগুলোর একটি ‘বাভি’ তাইওয়ান, জাপান ও চীনের দিকে অগ্রসর হওয়ায় ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) ও শনিবার তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানার আশঙ্কায় দুই হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তাইপে, নিউ তাইপে, কিলুং ও ইলান অঞ্চল। উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ানের অনেক স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বৃষ্টিতে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে দুটি পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম এলাকায় নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে অভিযান চালাচ্ছেন।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, বাভির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি প্রায় ১৯০ কিলোমিটার। যদিও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এটি কিছুটা দুর্বল হতে পারে, তবুও টাইফুনটির প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর বাতাসের ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার, যা গত ৩০ বছরের মধ্যে তাইওয়ানে আঘাত হানতে যাওয়া সবচেয়ে বড় টাইফুনগুলোর একটি।
আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, কোথাও কোথাও প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এছাড়া সমুদ্রে নয় মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের পূর্বাভাস থাকায় উপকূলীয় এলাকায় লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলের হুয়ালিয়েন কাউন্টিতে সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ২৮ হাজারের বেশি সেনাসদস্য, উদ্ধার সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে কিলুং শহরের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী মজুত করছেন, জানালায় টেপ লাগাচ্ছেন এবং দোকানের সামনে বালুর বস্তা রেখে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করছেন।
তাইওয়ানের পর টাইফুনটি জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাকাশিমা দ্বীপপুঞ্জে প্রভাব ফেলতে পারে। সেখানে স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে এবং উঁচু ঢেউ, ঝড় ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এরপর সপ্তাহের শেষ দিকে এটি পূর্ব চীনের স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এরই মধ্যে দক্ষিণ ও মধ্য চীনে সাম্প্রতিক ঝড়ে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতা এবং চলতি বছরের এল নিনো পরিস্থিতি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়কে আরও শক্তিশালী করছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
কালের সমাজ/ এএইচবি

