ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
খামেনির শেষ বিদায়ের কর্মসূচিগুলোতে

৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষের উপস্থিতির দাবি ইরানের

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ১০, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষের উপস্থিতির দাবি ইরানের
ছবি সংগ্রহ

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেশজুড়ে ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগমের দাবি করেছে ইরান। দেশটির সরকারি গণমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৪ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি এ শোকানুষ্ঠানকে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শোকযাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানসহ কোম, মাশহাদ, নাজাফ ও কারবালা, এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ধারাবাহিকভাবে শোকানুষ্ঠান, দোয়া মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত এবং জানাজার বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দেশজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শোকপতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং অসংখ্য মানুষ কালো পোশাক পরে শোকমিছিলে অংশ নেন।

গত শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ বিদায়ের কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে খামেনির কফিন জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হলে হাজারো মানুষ দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তী কয়েক দিনে তাঁর মরদেহ বিভিন্ন ধর্মীয় নগরীতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে লাখো মানুষ জানাজার নামাজ ও শোকযাত্রায় অংশ নেন।

ইরানের পবিত্র নগরী কোমে অনুষ্ঠিত অন্যতম বৃহৎ শোকযাত্রায় রাস্তাজুড়ে মানুষের ঢল নামে। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, তরুণ এবং শিশু সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। শোকমিছিলজুড়ে ধর্মীয় স্লোগান, দোয়া এবং কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একইভাবে মাশহাদেও লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে জন্মশহর মাশহাদে ইরানের অন্যতম পবিত্র শিয়া ধর্মীয় স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

শুধু ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকেও প্রতিনিধি দল এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নেয়। ইরানের আঞ্চলিক মিত্র হামাস, গাজাভিত্তিক ইসলামিক জিহাদ, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের প্রতিনিধিরা শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিরাও শোকবার্তা পাঠান কিংবা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বলে ইরানি গণমাধ্যম জানায়।

খামেনির মৃত্যু নিয়ে ইরান অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মধ্য তেহরানে তাঁর বাসভবনে তিনি নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক শোকের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। ইরানের শীর্ষ নেতারা তাঁর অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ধর্মীয় দিকনির্দেশনা এবং আঞ্চলিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ছয় দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানের শেষ দিনে মাশহাদে অনুষ্ঠিত মহাশোকযাত্রায় মানুষের ঢল নামে। শহরের প্রধান সড়কগুলো কালো পতাকা, ব্যানার ও শোকবার্তায় সজ্জিত করা হয়। লাখো শোকাহত মানুষ জানাজার নামাজে অংশ নিয়ে দোয়া করেন এবং শেষ বিদায় জানান। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত সব কর্মসূচি মিলিয়ে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখের মধ্যে, যা বিশ্বের বৃহত্তম শোকসমাবেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
কালের সমাজ/এএইচবি 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!