দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সেই ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গণমাধ্যম প্রধানরা।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ডিআরইউ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্পাদক, বার্তা প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা ডিআরইউর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও সদস্যবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শ তুলে ধরেন। তাঁরা সদস্যপদ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সদস্যপদ না দেওয়া এবং প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বলা হয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল গণমাধ্যম বাস্তবতায় সাংবাদিকদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআরইউর সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম।
এনটিভির হেড অব নিউজ ফখরুল আলম কাঞ্চন বলেন, সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নে নিয়মিত কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি।
আরটিভির হেড অব নিউজ ও ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, মোবাইল জার্নালিজম প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ডিআরইউ কমপ্লেক্স নির্মাণ ও কমিটির মেয়াদ দুই বছর করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
চ্যানেল আই’র হেড অব নিউজ জাহিদ নেওয়াজ জুয়েল বলেন, ডিআরইউ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এআই, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই ও অন্যান্য আধুনিক বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি শিশুদের জন্য সংবাদ-সাক্ষরতা কর্মসূচি চালু এবং সরকারের সহযোগিতা গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।
মাই টিভির হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সাল বলেন, এআই, ইংরেজি ও চীনা ভাষা শিক্ষা, ডিআরইউ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং পেশাগত মানদণ্ড নির্ধারণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ শহিদুল আজম বলেন, সংখ্যার চেয়ে মানসম্মত কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি পেশাগত উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মসূচি বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
একুশে টিভির হেড অব নিউজ হারুন-উর রশীদ বলেন, বর্তমান কমিটির এক বছরে নেওয়া উদ্যোগগুলো ইতিবাচক। তিনি সংগঠনের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি, সদস্য চাঁদা পুনর্বিবেচনা এবং কমিটির মেয়াদ দুই বছর করার প্রস্তাব দেন।
ইনডিপেনডেন্ট টিভির হেড অব নিউজ মোস্তফা আকমল বলেন, সদস্যপদ প্রদানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নতমানের প্রেস রিলিজ প্রস্তুত এবং ডিজিটাল সাংবাদিকতার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
গ্রীণ টিভির হেড অব নিউজ মাহমুদ হাসান বলেন, উন্নতমানের ভিডিও কাভারেজ ও প্রেস রিলিজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সদস্যপদ প্রদানের ক্ষেত্রে বিতর্ক এড়াতে হবে।
বৈশাখী টিভির হেড অব নিউজ এবিএম জিয়াউল কবির সুমন বলেন, অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে শুরু হলে গণমাধ্যমে কাভারেজ সহজ হয়। তিনি ভাষা প্রশিক্ষণ ও অনলাইন সাংবাদিকতার ওপর বিশেষায়িত কোর্স চালুর প্রস্তাব দেন।
সময় টিভির হেড অব নিউজ মুজতবা খন্দকার বলেন, ডিআরইউ’র একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ওপরে জোর দেয়া উচিত।
দীপ্ত টিভির হেড অব নিউজ এস এম আকাশ বলেন, উচ্চারণ ও উপস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ডিআরইউর লাইব্রেরিকে আরও সমৃদ্ধ করা দরকার।
মাছরাঙা টিভির হেড অব নিউজ হামিদুল হক বলেন, সদস্যপদ প্রদানের ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
বাংলা টিভির হেড অব নিউজ এম এম বাদশাহ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠান বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল জার্নালিজম (মোজো) প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন।
এসএ টিভির হেড অব নিউজ জাহিদুর রহমান খান বলেন, সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা আয়োজন করা উচিত।
মোহনা টিভির সিএনই সুমন মুস্তাফিজ সংগঠনের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য সদস্য চাঁদা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেন।
ডিবিসি নিউজের সিএনই শাহাবুদ্দীন চৌধুরী বলেন, এআইসহ আধুনিক সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণের আওতা আরও বাড়ানো উচিত।
বাংলভিশনের ডেপুটি হেড অব নিউজ মোস্তফা কামাল প্রশিক্ষণের মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নাগরিক টিভির সিএনই নবিন হোসাইন আর. মালেক বলেন, সংগঠনের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, আপনাদের প্রত্যেকের পরামর্শ অত্যন্ত মূল্যবান। ডিআরইউকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও সদস্যবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে এসব সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, সদস্যদের কল্যাণ এবং সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের মতবিনিময় সভায় প্রাপ্ত পরামর্শ আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হবে।
এসময় ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী ও মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের ধন্যবাদ জানানো হয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা নিয়মিত আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
কালের সমাজ/এএইচবি

