ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

আত্মঘাতী গোলের বিশ্বরেকর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক | জুলাই ৫, ২০২৬, ১২:১০ পিএম আত্মঘাতী গোলের বিশ্বরেকর্ড

২০২৬ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল যেন নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। টুর্নামেন্ট শেষ হতে এখনো বাকি ১৬টি ম্যাচ, এরই মধ্যে নিজেদের জালে ১৪ বার বল জড়িয়েছেন ফুটবলাররা। ফলে এক আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে।

এর আগে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১২টি আত্মঘাতী গোলের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৮ সালে। সেই রেকর্ড এবার পেছনে ফেলেছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ডালাসে মিসর ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে মিশরের ডিফেন্ডার মোহামেদ হানির আত্মঘাতী গোলটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের ১৩তম। আর পরে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ে যোগ হওয়া আরেকটি আত্মঘাতী গোল নিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১৪-তে।

এবারের বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের তালিকায় সবচেয়ে বেশি নাম এসেছে মিশরের মোহামেদ হানির। তিনি একাই দুটি আত্মঘাতী গোল করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে একজন খেলোয়াড়ের দুটি আত্মঘাতী গোল করার ঘটনা এর আগে ঘটেছিল ১৯৬৬ সালে, যখন বুলগেরিয়ার ইভান ভুতসভ একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। প্রায় ৬০ বছর পর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন হানি।

বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা হঠাৎ এত বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ টুর্নামেন্টের নতুন কাঠামো। এবারই প্রথম ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। দল বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে ম্যাচের সংখ্যাও। আগের ৩২ দলের বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ ছিল ৬৪টি। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৪। রাউন্ড অব ৩২ শেষ হওয়ার আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে ৮৮টি ম্যাচ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আত্মঘাতী গোলের মতো ঘটনাও তুলনামূলক বেশি ঘটছে।

তবে শুধু ম্যাচসংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত পরিবর্তনও আত্মঘাতী গোল বাড়ার আরেকটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে আক্রমণভাগের খেলায় দ্রুতগতির ক্রস, নিচু পাস, প্রতিপক্ষের বক্সে ধারাবাহিক চাপ এবং ডিফেন্ডারদের ওপর বাড়তি চাপ আত্মঘাতী গোলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক সময় প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকারকে গোল করতে না দেওয়ার চেষ্টায় ডিফেন্ডারদের স্পর্শেই বল জড়িয়ে যাচ্ছে নিজেদের জালে।

এর পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহারও আত্মঘাতী গোল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে। ভিএআর, বিভিন্ন কোণ থেকে টেলিভিশন রিপ্লে, উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং বলের গতিপথ বিশ্লেষণের আধুনিক ব্যবস্থা থাকায় এখন গোলের প্রকৃত উৎস নির্ধারণে আগের মতো বিতর্কের সুযোগ কম। যে গোল একসময় আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের নামে যোগ হতে পারত, এখন তা নির্ভুল বিশ্লেষণের মাধ্যমে আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হচ্ছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৩০ সালের প্রথম আসর থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মোট আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮টি। এর মধ্যে শুধু চলতি আসরেই হয়েছে ১৪টি, যা মোট সংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ। টুর্নামেন্টে এখনো ১৬টি ম্যাচ বাকি থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলের বিচারে এমন এক রেকর্ড গড়তে পারে, যা ভবিষ্যতের আসরগুলোর জন্য নতুন মানদণ্ড হয়ে থাকবে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!