ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
অপ্রতিরোধ্য সড়কে মৃত্যুমিছিল

জুন মাসেই প্রাণ গেল ৪৩৮ জনের

বিশেষ প্রতিনিধি | জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম জুন মাসেই প্রাণ গেল ৪৩৮ জনের
ছবি সংগ্রহ

দেশে গত জুন মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী এবং ৫৬টি শিশু। এছাড়া ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গতকাল রোববার  রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তরফে প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন রাজনৈতিক কর্মী, ১৭ জন এনজিও কর্মী, ১৩ জন ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৪ জন শিক্ষক, ২ জন সাংবাদিক, ১ জন চিকিৎসক, ৩ জন প্রকৌশলী, ৪ জন আইনজীবী এবং একজন চীনা নাগরিক।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৯১ জন পথচারী, যা মোট মৃত্যুর ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন। সড়ক দুর্ঘটনা ছাড়া ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৪জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ২১টি রেল দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৭জন আহত হয়েছেন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার খবর এবং নিজস্ব সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাসের যাত্রী ২৭ জন এবং ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী ৩৭ জন। নিহতদের মধ্যে থ্রি হুইলারের যাত্রী ১১২ জন। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ১৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৫ জন, রিকশা ও সাইকেলের চালক ৮ জন। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, যার সংখ্যা ১৯৪টি। এরপর জাতীয় মহাসড়কে ১৫১টি, গ্রামীণ সড়কে ৬৪টি এবং শহরের সড়কে ৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্য জায়গায় ঘটেছে ছয়টি দুর্ঘটনা।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০৬টি। অন্তত ১০৯টি দুর্ঘটনা ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৭টি ক্ষেত্রে যানবাহন পথচারীদের ধাক্কা দিয়েছে বা চাপা দিয়েছে এবং ৫৩টি ক্ষেত্রে পেছন থেকে অন্য যানবাহনকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় মোট ৭১৩টি যানবাহন জড়িত ছিল। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে—১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম, ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। 
ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ রাস্তা, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ এবং শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে অনুপযুক্ত চালক, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সীমিত সক্ষমতা, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতার অভাব এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে যে, সময়োপযোগী নীতিমালা, উন্নত প্রযুক্তি ও অবকাঠামো এবং সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে, তবে এর জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য।

কালের সমাজ/এএইচবি
 

Link copied!