ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

বোর্ডিং পাস নেওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় গেলেন না কেন ৭৬ বাংলাদেশি

বিশেষ প্রতিনিধি | জুলাই ৫, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম বোর্ডিং পাস নেওয়ার পরও মালয়েশিয়ায়  গেলেন না কেন  ৭৬ বাংলাদেশি
ছবি সংগ্রহ

মালয়েশিয়াগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করার পরও ৬১ জন বাংলাদেশি যাত্রী আর বোর্ডিং গেটে আসেননি। অন্যদিকে, ইমিগ্রেশন বিভাগ ১০ জন যাত্রীকে উড়োজাহাজে ওঠার পর অফলোড করে এবং আরও পাঁচজনকে বোর্ডিং গেটেই আটকে দেয়। ফলে মোট ৭৬ জন যাত্রীকে ছাড়াই ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করে।

শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে ঘটনা ঘটে। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি ২১২ জন যাত্রী নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, ফ্লাইটটিতে মোট ২৮৮ জন যাত্রীর টিকিট ছিল। এর মধ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগ ১০ জনকে অফলোড করে এবং আরও পাঁচজনকে বোর্ডিং গেটে আটকে দেয়। এরপর বোর্ডিং পাস নেওয়া আরও ৬১ জন যাত্রী বোর্ডিং গেটে আর উপস্থিত হননি।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এসব যাত্রী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। যাদের আটকে দেওয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশই পর্যটক ভিসা ব্যবহার করে মূলত কাজের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা প্রথমে এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে ব্যাগেজ জমা দিয়ে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেন। এরপর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পাসপোর্ট যাচাই প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে বোর্ডিং গেটে যান। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)

ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিশেষ শাখার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ অভিবাসন এবং বিদেশে তাদের নিরাপত্তা মর্যাদা নিশ্চিত করার স্বার্থে সন্দেহজনক ক্ষেত্রে যাত্রীদের অফলোড করা হয়।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায়, যথাযথ ভিসা থাকা সত্ত্বেও অনেক বাংলাদেশিকে দেশটিতে পৌঁছানোর পর ফেরত পাঠানো হয়। কারণে বাংলাদেশ থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

কর্মকর্তা আরও বলেন, শনিবার যাদের অফলোড করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে জাল ভিসার কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তবে অনেক সময় দেখা যায়, কোনো যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে যাচ্ছেন, কিন্তু তার আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে ভ্রমণের উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। এছাড়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সন্দেহের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন বিভাগ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি জানান, শনিবারের ঘটনায় কোন কোন নির্দিষ্ট কারণে যাত্রীদের অফলোড করা হয়েছে, সে বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

কালের সমাজ/এএইচবি

Link copied!