রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে প্রায় ৯০ মিনিটের একটি টেলিফোন আলাপে ইউক্রেন যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে ট্রাম্প আবারও যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোনালাপটি ছিল “গঠনমূলক ও ব্যবসায়িক”। এ সময় পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণকে শুভেচ্ছা জানান।
মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাশিয়া এখনো ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, কিয়েভ ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা সংঘাত দীর্ঘায়িত ও আরও তীব্র করার নীতি অনুসরণ করছে।
রাশিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের ডোনেৎস্ক অঞ্চলে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করছে। দেশটি সম্প্রতি ডোনেৎস্কের কস্তিয়ানতিনিভকা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে এবং এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, রুশ সেনাদের ছোট ছোট দল শহরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলেও ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনো নিজেদের প্রতিরক্ষা অবস্থান ধরে রেখেছে এবং প্রতিরোধ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তারও ট্রাম্পের সঙ্গে “খুবই ভালো” একটি ফোনালাপ হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও জোরদার করেছে। শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কথা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, এই স্থাপনাটি রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বের উৎস।
ইউক্রেনের দাবি, গত এক মাসে রাশিয়ার অন্তত আটটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে এবং ৬০টির বেশি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ধ্বংস বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে যাওয়া ক্রিমিয়ায়ও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
এদিকে আগামী মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধের চলমান পরিস্থিতি এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। -সূত্র: সিএনএন
কালের সমাজ/এসআর

