বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে নানা অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। তবে এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে খেলোয়াড়দের শান্ত ও মনোযোগী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান কোচ টমাস টুখেল।
রোববার ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ম্যাচের আগে নিরাপত্তা শঙ্কা এবং বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে কিক-অফের সময় ছয় ঘণ্টা এগিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মেক্সিকো সিটির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ২৪০ মিটার হওয়ায় খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে এক দিন আগেই দলকে সেখানে নিয়ে যায় ইংল্যান্ড। শনিবার স্থানীয় একটি অনুশীলন কেন্দ্রে অনুশীলনও করেছে তারা।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, বাইরের নানা আলোচনা যতই থাকুক, দলের ভেতরের পরিবেশ ছিল শান্ত।
‘এ ধরনের বড় টুর্নামেন্টে বাইরে অনেক কথাবার্তা হয়। কিন্তু দলের ভেতরে পরিবেশ ছিল শান্ত ও মনোযোগী। মঞ্চ যত বড় হয়, বাইরের শব্দও তত বাড়ে। তাই আমাদের প্রস্তুতিও আরও শান্তভাবে নিতে হয়েছে।’
তিনি জানান, ম্যাচের সময় পরিবর্তনের সম্ভাবনার বিষয়টি খেলোয়াড়দের অনেকেই জানতেন না।
‘এই ঘটনাই প্রমাণ করে, অযথা মাথা গরম করার কোনো মানে নেই। এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলোর ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই সেগুলো নিয়ে সময় নষ্ট না করাই ভালো।’
টুখেল আরও বলেন, ‘মেক্সিকোতে পৌঁছানোর পরও ম্যাচের সময় অপরিবর্তিত ছিল। তাই এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। উচ্চতায় খেলতে হবে, প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা থাকবে—এসবই বাস্তবতা। এগুলো আমাদের পক্ষে নয়, কিন্তু এগুলো মেনেই খেলতে হবে।’
সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার মতো মানসিক শক্তি দলের আছে বলেও বিশ্বাস করেন ইংল্যান্ড কোচ।
‘আমাদের সামনে কিছু বাধা আছে। কিন্তু দল হিসেবে আমাদের ঐক্য, প্রতিশ্রুতি এবং জয়ের ইচ্ছা রয়েছে। এসব কারণেই আমি আত্মবিশ্বাসী। আমরা জানি কী ধরনের পরিবেশ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। ম্যাচে সবাই সেটি অনুভব করবে। তবে এটিই তো বড় টুর্নামেন্টের সৌন্দর্য। আমরা শুধু সেসব বিষয়েই মনোযোগ দিচ্ছি, যেগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’
শনিবার পুমাসের অনুশীলন কেন্দ্রে দলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। টুখেল স্বীকার করেন, অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়েরা উচ্চতার প্রভাব অনুভব করেছেন। তবে তার বিশ্বাস, ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে তারা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।
কালের সমাজ/কে.পি

