ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও মানবিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করে তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে ফেরাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে কঠিন এই সময় শক্ত থাকার বার্তাও দিয়েছেন।
গত ২৬ জুন অল্প সময়ের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর প্রায় ৪০ সেকেন্ড পর অনুভূত হয় আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় কম্পন। এতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে দেয়া বার্তায় মেসি বলেন, ভেনেজুয়েলার সব মানুষের প্রতি তিনি ভালোবাসা ও সমর্থন পাঠাতে চান। তার ভাষায়, দেশটির মানুষ বর্তমানে যে ভয়াবহ দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সবাই উপলব্ধি করছে। তাই এই কঠিন সময়ে তাদের প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন জানানো প্রয়োজন।
শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথাই নয়, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়ানো মানুষের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, যারা এখনো স্বজনদের খুঁজে পাচ্ছেন না এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি তার আন্তরিক সমর্থন ও সহমর্মিতা রয়েছে।
বার্তার শেষাংশে ভেনেজুয়েলার মানুষের উদ্দেশে সাহস হারিয়ে না ফেলার আহ্বান জানান মেসি। তিনি বলেন, দূর থেকে হলেও ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য তার অনেক ভালোবাসা ও শক্তি রইল এবং তিনি আশা করেন, দেশটি দ্রুত এই ভয়াবহ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারবে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। ভূমিকম্পে সবকিছু হারানো এক শিশুর প্রতি বিশেষ সহমর্মিতা জানিয়ে তাকে নিজের একটি ম্যাচে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত ভিডিও বার্তায় রোনালদো বলেন, তিনি চান শিশুটি তার একটি ম্যাচ দেখতে আসুক। তার এই উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকার এমন মানবিক বার্তা ভেনেজুয়েলার দুর্গত মানুষের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি ও সহমর্মিতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাপিয়ে মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদেরও আবেগাপ্লুত করেছে।

