ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

চকরিয়ায় বিজিবির উদ্যোগে বন্যাদুর্গত ১,৫০০ পরিবারকে ত্রাণ, ৭০০ জন পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

নাইক্ষ্যংছড়ি | জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম চকরিয়ায় বিজিবির উদ্যোগে বন্যাদুর্গত ১,৫০০ পরিবারকে ত্রাণ, ৭০০ জন পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়া ও টানা অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১,৫০০টি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চকরিয়া পৌরসভা, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন ও কাকারা ইউনিয়নে বিজিবির উদ্যোগে আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১,৫০০টি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিজিবির মেডিক্যাল টিমের উদ্যোগে প্রায় ৭০০ জন বন্যাদুর্গত ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার, রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) ও রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি)-এর অধিনায়কসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সরকারের মানবিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানবিক সংকট ও জাতীয় প্রয়োজনে জনগণের পাশে থেকে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিজিবি সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বই পালন করে না, দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সর্বদা প্রস্তুত থাকে। বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিজিবির এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের নির্দেশনায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব সরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিজিবির মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দেশের মানুষের যেকোনো দুর্যোগে এ ধরনের সহায়তামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ প্রেরকঃ হাবিবুর রহমান রনি নাইক্ষ্যংছড়ি বান্দরবান প্রতিনিধি।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!