ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সমান তালে বাড়ছে ডিম ও মুরগির দাম, মধ্যবিত্তের বাজেটে বাড়তি চাপ

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম সমান তালে বাড়ছে ডিম ও মুরগির দাম, মধ্যবিত্তের বাজেটে বাড়তি চাপ
সংগৃহীত ছবি

টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার প্রভাবে রাজধানীর বাজারে ডিম ও মুরগির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দুই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের সংসার পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। আয় অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিদিনের বাজার খরচ বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারছে না।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর নারিন্দা, রায়সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাদামি ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। হাঁসের ডিমের দামও বেড়ে ডজনে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজধানীতে ডিমের সরবরাহ কমেছে। একই সঙ্গে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা বিকল্প হিসেবে ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী।

এদিকে ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্নের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে দামের চাপ আরও বেড়েছে।

রায়সাহেব বাজারের ক্রেতা নাসিরুদ্দিন বলেন, প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন করে দামের ধাক্কা খেতে হচ্ছে। আয় তো বাড়ছে না, কিন্তু প্রতিদিনই বাজার খরচ বাড়ছে। প্রয়োজনীয় সব পণ্য একসঙ্গে কিনতে গেলেই বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে।

নিত্যপণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অনেকেই এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে বাজার করছেন কিংবা কিছু পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকছেন। বিশেষ করে ডিম, মাছ, মাংস ও সবজির বাড়তি দামের কারণে পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে উঠছে। সংসারের অন্যান্য খরচ সামলে খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

ব্যবসায়ীদের মতে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে অন্তত এই সময় পর্যন্ত ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

কালের সমাজ/এএইচবি

Link copied!