ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

নগরকান্দায় গাছকাটা শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নগরকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর | জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম নগরকান্দায় গাছকাটা শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার গোয়ালপুতা গ্রামে ফারুক মাতুব্বর (৩০) নামে এক গাছকাটা শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কোনো এক সময়ে নিজ ঘরের চালের রুয়ার সঙ্গে গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত রশি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। নিহত ফারুক মাতুব্বর ওই গ্রামের মো. মজনু মাতুব্বরের ছেলে। তিনি বিবাহিত ছিলেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ফারুক নিজ ঘরে ছিলেন। তাঁর বাবা মজনু মাতুব্বর ছেলের ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান। দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আবার গিয়ে ঘরের ভেতর ফারুককে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি নগরকান্দা থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, ফারুক মাতুব্বর পেশায় গাছপালা কাটার শ্রমিক ছিলেন। আত্মহত্যার সময় তিনি গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত রশিই ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে। ঘটনার আগের রাতে তাঁর বাবা মজনু মাতুব্বর ছেলের ঘরে খাবার দিয়ে আসলেও সেই খাবার তিনি খাননি। নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫) বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবা মোতালেব সরদার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের পর ফারুক ও সুমির বিয়ে হয়। প্রায় দুই মাস আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে সুমি তাঁদের ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

নিহতের ভাবি (জা) রুমা আক্তার বলেন, "মোবাইলে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়েছিল। প্রায় দুই মাস আগে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার পর সুমি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এরপর থেকেই ফারুক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।" তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পরিবার কিংবা স্থানীয় কেউ নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সানদানী আজাদ বলেন, "আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!