ঢাকা বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খুলনায় কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী বিজেএ‍‍`র সংবাদ সম্মেলন

জেলা প্রতিনিধি,খুলনা | মে ১৯, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম খুলনায় কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী  বিজেএ‍‍`র   সংবাদ সম্মেলন

কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে  বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের  সংবাদ সম্মেলন   এবং  জুট শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে

খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে দৌলতপুর রেলিগেট মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। খুলনার দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে শ্রমিকরা নগরীর রেলিগেট মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

পরে তারা বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকদের একটি অংশ ভবনের বাইরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে পাট খাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে। গত নয় মাস ধরে অসংখ্য শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করেন তারা।

শ্রমিকরা দ্রুত কাঁচা পাট রপ্তানি চালুর পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান। শ্রমিক নেতা শফিকুল ইসলাম একটু বলেন, কাঁচাপাট রপ্তানির সাথে জড়িত সারা দেশে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ পেশা চেঞ্জ করে অন্য পেশায় চলে গেলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কোন কোন পাট ব্যবসায়ী রপ্তানিকারক ব্যাংক দেনা পাটের মহাজনদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে মরেও পালিয়ে গিয়েছে। তাদের অনেকেই দেনার দায়ে দুকে দুকে মৃত্যুবরণ করেছে।

সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই প্রতিবার কাঁচাপাট রপ্তানিকারকরা এভাবে হোঁচট খাচ্ছে। সবাই সহায সম্বল হারিয়ে মানবতা জীবন যাপন করছে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।এদিকে একই সময়ে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শর্ত আরোপের মাধ্যমে কাঁচা পাট রপ্তানি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদ জানান সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, দ্রুত কাঁচা পাট রপ্তানি চালু না হলে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প ধ্বংসের মুখেচলতি মৌসুমে কৃষক পাটের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার কারণে দেশে প্রায় দেড়গুন পাটের আবাদ বেশী হয়েছে। তাছাড়া এ বছর আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে সামনের মৌসুমে দেশে পাটের বাম্পার ফলন হবে।

কাঁচা পাট রপ্তানি চালু করা না হলে বর্তমান বছরের উদ্বৃত্ত পাটের সাথে সামনের মৌসুমের উৎপাদিত বিপুল পরিমান কাঁচা পাট তখন ব্যবহারের কোন জায়গাই আর থাকবে না। যার ফলে পাটের বাজারে ধ্বস নেমে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং পরবর্তীতে কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। যার ফলশ্রুতিতে দেশের পাট খাত ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।
 

কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ থাকার কারণে আমরা জুট মিলগুলোর নিকট কাঁচা পাট বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করলে তাঁরা আমাদের নিকট হতে পাট ক্রয় করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। বর্তমানে জুট মিল মালিকেরা এককভাবে পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুট মিলে পাট সরবরাহকারী ব্যবসায়ীদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।

কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ থাকায় খুলনা, নারয়ণগঞ্জ, বৃহত্তর ফরিদপুর, উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশের প্রায় ছোট বড় ৪০ টি জুট প্রেস হাউস বন্ধ থাকায় সেখানে কর্মরত প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক প্রায় ৯ মাস যাবৎ কর্মহীন হয়ে পড়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। যেকোন সময় পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে বলে আমরা আশংকা প্রকাশ করছি। আমাদের ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমাদের প্রতিষ্ঠাসমূহে কর্মরত কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছে।

আমাদের ব্যবসা প্রায় ৯ মাস বন্ধ থাকলেও গুদাম ভাড়া, অফিস ভাড়া, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইন্সুরেন্স, শ্রমিক-কর্মচারী হাজিরা এবং অন্যান্য যাবতীয় খরচ বহন করতে হওয়ায় আমাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমান দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনতিবিলম্বে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকা হতে অব্যাহতি প্রদান করা না হলে আমরা সীমাহীন আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়বো এবং ব্যাংকে ঋণগ্রন্থ হয়ে পড়বো সেক্ষেত্রে সব দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

কাঁচা পাট রপ্তানির উপর থেকে শর্ত প্রত্যাহারের জন্য আমরা একাধিক বার মাননীয় বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে কোন কর্ণপাত করেন নি।

কৃষক ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে, লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মচারীর কর্মসংস্থান সচল রাখা ও কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার্থে এবং দেশের স্বার্থে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর রপ্তানী-১ অধিশাখা কর্তৃক গত ০৮/০৯/২০২৫ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।
 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!