ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হারিয়ে যাচ্ছে সেই শৈশবের সুগন্ধি ‘গোলাপ জাম’

মোঃ শাহ আলম মিয়া | মে ১৪, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম হারিয়ে যাচ্ছে সেই শৈশবের সুগন্ধি ‘গোলাপ জাম’

স্মৃতি যেন এক মায়াবী আয়না। শহরায়নের ভিড়ে সেই আয়নায় ধুলো পড়লেও, চোখ বুজলে এখনো ভেসে ওঠে গ্রামের সেই শৈশব স্মৃতি। আজকের ইট-পাথরের খাঁচায় বন্দি যান্ত্রিক জীবনে ফিরে তাকালে বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। শৈশবের সেই দিন-দুপুরগুলো ছিল মায়াবী, আর সেই মায়ার অনেকটা জুড়েই ছিল বাড়ির পেছনের ঝোঁপঝাড়ে বা রাস্তার ধারে- খালের পাড়ে লুকিয়ে থাকা দেশজ মনলোভা ফল। 

মূলত বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মতোই বৈচিত্র্যময় এই বাংলার ঋতুভিত্তিক ফলগুলো। তবে কালের বিবর্তনে ও আধুনিক ফলের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের অনেক দেশি ফল। তেমনি একটি বিলুপ্তপ্রায় পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল হল গোলাপজাম— যার নাম শুনলেই নাকে ভেসে আসে গোলাপের মিষ্টি সুগন্ধ। একসময় গ্রাম বাংলার আনাচে-কানাচে এই ফলের গাছ প্রচুর দেখা গেলেও বর্তমানে তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা হলদেটে গোলাপ জাম আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

স্মৃতির জাগরণ:
“মনে পড়ে সেই দুপুরের রোদ, চকচকে সারাক্ষণ,
গোলাপ জামের মাতাল ঘ্রাণে, কাটত যে দিনক্ষণ।”

নব্বইয়ের দশকেও যাদের শৈশব কেটেছে, তাদের কাছে গোলাপ জাম শুধু একটি ফল নয়, বরং এক টুকরো নস্টালজিয়া। স্কুল ছুটির পর কিংবা চৈত্র-বৈশাখী দুপুরের তপ্ত রোদে দলবেঁধে গাছতলায় ফল ভক্ষণের তালিকায় শীর্ষে থাকতো গোলাপ জাম।

“গাছের ডালে লুকোচুরি, পাখির সাথে মেলা,
হলুদ রঙের গোলাপ জামে, কাটত সারা বেলা।”

পাকা গোলাপ জাম হাতে নিয়ে তার ভেতরকার বীজের খটখট শব্দ শোনা ছিল এক অন্যরকম রোমাঞ্চ। কামড় দিলেই সেই অদ্ভুত স্বর্গীয় সুবাস, যা নামিদামি বিদেশি পারফিউমকেও হার মানায়।

সেদিন হঠাৎই ফেসবুকে গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত আমার এক ছোট ভাইয়ের গোলাপ জামের ছবির পোস্টে চোখ আটকে গেল। বূদ হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মনের কোণে ভেসে উঠলো এক অমলিন শৈশব স্মৃতি। পরে অবশ্য আমার স্মৃতিকাতরতার কথা শুনে সেই ছোট ভাইটি চট্টগ্রাম থেকে কুরিয়ার করে পাঠিয়ে আমার স্মৃতিকে আরো সতেজ করেছিল নবরুপে।

স্মৃতির দোআড়া পেরিয়ে
আমার বেড়ে উঠা একদম অজপাড়া গাঁয়ে। মির্জাপুর ইউনিয়নের প্রান্তিক গ্রাম দেউলপাড়া। তিন থানার মোহনায় অবস্থিত এই নিভৃত পল্লীটি যেন প্রকৃতির এক শান্ত কোল। সেই গ্রামের এক চিলতে দোআড়া—জঙ্গলের বুক চিরে চলে যাওয়া এক মেঠো পথ—যেখানে আমার শৈশবের প্রতিটি পদক্ষেপ আজও মিশে আছে। সেই পথ পেরোলেই ফইঙা খাল, গ্রাম্য ভাষায় যাকে কেউ বলে ‘ডাঁড়া’ আবার কেউ ‘জলি’। আজ যান্ত্রিক নগরের ভিড়ে দাঁড়িয়ে সেই খালের পাড়ের দিনগুলোর কথা বড় বেশি মনে পড়ে।

বয়স তখন বড়জোর নয় কি দশ। স্কুল ছিল অনেকটা পথ পেরিয়ে। সঙ্গী ছিল আমার প্রাণের বন্ধু পিনু। প্রতিদিন সকালে পিনু যখন ফইঙা খালের পাড়ে এসে চেনা গলায় ডাক দিত, আমার মন তখন ঘরে টিকত না। দোআড়া পেরিয়ে আমি তার সাথে মিলে যখন পা ফেলতাম, তখন পথের দুধারে বাদিয়া পাড়ার নীরবতা আর খালের পাড়ের সুনিবিড় ছায়া আমাদের যেন এক মায়াবী জগতের গল্প শোনাত।

স্কুলের টিফিন পিরিয়ডটা আমাদের কাছে ছিল মুক্তির হাতছানি। বইয়ের পাতায় মন না বসে আমাদের চোখ থাকত জানালা দিয়ে দূরের সেই খালের পাড়ে। তখন জৈষ্ঠ্য মাসের শুরু। কিছুটা ভ্যাপসা গরম। পিনুর মাথায় এক দারুণ বুদ্ধি খেলে গেল—স্যারের চোখ ফাঁকি দিয়ে একদিন আমরা দিলাম চম্পট!

গন্তব্য আমাদের চিরচেনা সেই ঝোপালো গোলাপ জাম গাছ। থোকায় থোকায় ঝোলানো হলদেটে পাকা সেই ফলগুলোর রূপ দেখে কার সাধ্য আছে স্থির থাকে! পিনু ছিল গাছে চড়ার ওস্তাদ-কারিগর। এক পলকে সে গাছের মিনমিনে মগডালে। সে যখন প্যান্টের কোঁচড় ভরে অমৃতের মতো ফলগুলো নিয়ে নিচে নামল, খালের পাড়ে তখন শুরু হলো এক মহা উৎসব।
কামড় দিতেই সেই তীব্র গোলাপের সুগন্ধ আর মিষ্টি রস—যেন পৃথিবীর সব সুখ সেই এক টুকরো ফলে মিশে ছিল। আমাদের সেই আনন্দের মুহূর্তগুলো কবির ভাষায় বললে এমন হয়-

“বইয়ের ব্যাগটা ঘাসের ওপর, পিনুর সেই হাসি,
গোলাপ জামের ঐ ঘ্রাণটা, আজও ভালোবাসি।”

স্মৃতির জলে অবগাহন
সুখের সেই মুহূর্তগুলো আচমকা ভেঙে গেল বিপদের আশঙ্কায়। হঠাৎ দূর থেকে স্কুলের দপ্তরিকে আসতে দেখেই আমাদের কলিজা শুকিয়ে জল! তড়িঘড়ি করে ফল ফেলে দিয়ে খালের জলে এক ঝপাৎ! দীর্ঘক্ষণ জলে থাকতে হয়েছিল দপ্তরি সইদুলের ভয়ে।
অন্য দিকে ভেজা কাপড়ে বাড়িতে গেলে মায়ের পিটুনি ও বকুনির ভয়ে আমরা অস্থির। হঠাৎ বুদ্ধি আসে মাথায়। মা হাঁস পালতো অনেক গুলো। প্রায় সময় ছমচুলের মাও ছোট শামুক নিয়ে এসে মাকে দিতো, বিনিময়ে চাল-খুদ নিয়ে যেতো। এই জলিতেই এ ছোট শামুক গুলো পাওয়া যেত বেশ। গ্রামে ছোট শামুক গুলোকে টোকরাই বলতো।

“খালের পাড়ের মেঠো পথটি, দুপাশে সবুজের মেলা,
গোলাপ জামের মিষ্টি ঘ্রাণে, কাটত স্কুল বেলা।

অগত্যা আমরা শামুক কুড়িয়ে ভেজা শার্টে পেঁচিয়ে নিয়ে এসে মাকে দিলাম কিছুটা রক্ষা পাওয়ার জন্য। ভিজে কাপড়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফেরার সেই দিনগুলো আজ কেবলই ধুলো জমা নস্টালজিয়া। খালের জলে রোদের ঝিলিক আর গোলাপ জামের মিষ্টি গন্ধ—সব মিলেমিশে এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করত:

“খালের জলে ছায়া পড়ে, মাথার ওপর রোদ,
গোলাপ জামের মিষ্টি গন্ধে, নেই তো কোনো ক্ষোভ।”

হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও বর্তমানকালের বিবর্তনে আজ পিনুর সাথে যোগাযোগ নেই দীর্ঘকাল। ফইঙা খালের পাড়ের সেই গাছটিও হয়তো এখন ইতিহাসের পাতায়। বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু হারিয়ে ফেলেছি শৈশবের সেই অকৃত্রিম স্বাদ আর সুবাস।

“হারিয়ে গেছে সেই দিনগুলি, হারিয়ে গেছে গান,
শহর এখন ধুলোয় ঢাকা, নেই সে গোলাপ ঘ্রাণ।”

আজ সেই গাছটি নেই, নেই শৈশবের সেই পিনু । কিন্তু ফইঙা খালের সেই স্নিগ্ধ হাওয়া আর গোলাপ জামের স্বর্গীয় সুবাস আজও আমার সত্তায় মিশে আছে। এই সুগন্ধি ফলটি কেবল একটি স্মৃতি নয়, বরং আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের এক করুণ আর্তি। শৈশবের সেই সোনালী দিনগুলো হয়তো আর ফিরে আসবে না, কিন্তু হৃদয়ের মণিকোঠায় আজও সেই গোলাপ জামের ঘ্রাণ অমলিন।

বাংলা সাহিত্যে গোলাপ জাম
বিলুপ্তপ্রায় গোলাপজাম তার সুমিষ্টতা, সৌন্দর্য ও গোলাপি সুঘ্রাণ এর জন্য যতটা সমাদৃত হওয়ার কথা, তা না হলেও বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের লিখনিতে এর উপস্থিতি বেশ সরব-

১. বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‍‍`সাহিত্যের পথে‍‍` প্রবন্ধের অন্তর্গত ‍‍`সাহিত্য ধর্ম‍‍` অংশে দেশীয় উদ্ভিদ ও ফলমূলের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে গিয়ে শিরীষ ফুল, তিসি, সর্ষের পাশাপাশি গোলাপজাম ফলের উল্লেখ করেছেন।

২. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার ‍‍`স্বদেশ ও সাহিত্য‍‍` প্রবন্ধে আক্ষেপ করে বলেছেন শিরীষ ফুলের মত সুন্দর ও সুগন্ধযুক্ত হওয়া সত্বেও কবিরা কেন গোলাপজাম ফুল ও ফলকে কাব্যে তেমন জায়গা দেননি। তার ভাষায়- "গোলাপজাম ফুলও না, যদিচ সে, শিরীষ ফুলের সবর্ববিষয়েই বিষয়েই সমতুল্য।"

৩. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার শিশুতোষ ছড়া ছড়া ‍‍`কালো জাম রে ভাই‍‍` এ গোলাপজামকে মাসতুতো ভাই হিসেবে উল্লেখ করেছেন-

           "তরমুজ তোমার ঠাকুমা বুঝি
            কাঁঠাল তোমার ঠাকুরদা
            গোলাপজাম তোর মাসতুতো ভাই
            জামরুল কি ভাই তোর
            বোনাই!"

৪.সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার ‍‍`চোখ বিষয়ে‍‍` কবিতায় প্রিয়জনের গোলগাল ও মিষ্টি চোখের সৌন্দর্যকে গোলাপজাম ফলের সাথে তুলনা করে লিখেছেন-
             তোমাদের মাছের মতন চোখ
             ছায়ার সাঁতারে তুলে আনি,
            তোমাদের গোলাপজামের মতো চোখ
            ভালোবাসি,
            মুখে দিই,
            দাঁতে................"

৫.হাবিবুল্লা সিরাজী "আয় রে আমার গোলাপজাপ" শিরোনাম একটি সমকালীন গল্পগ্রন্থ প্রকাশ করেন ।

৬.কবি শঙ্খ ঘোষ তার স্মৃতিকথা মূলক প্রবন্ধে গোলাপজাম পাড়ার ও সুঘ্রাণ নেয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

৭.অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ফল বিষয়ক ছড়ায় গোলাপজামের মিষ্টি স্বাদ ও সুগন্ধকে শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরেছেন।

৮.কবি জসীমউদ্দীন তার কবিতায় গোলাপ জামের সাদাটে-গোলাপী রুপ ও মৃদু গোলাপের মত মিষ্টি গন্ধের কথা ছন্দের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

৯.অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার উপন্যাসে "তিতাস একটি নদীর নাম" গোলাপ জামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

৯.দ্বিজেন শর্মা তার ‍‍`শ্যামলী নিসর্গ‍‍` বইয়ে মাঘ ফাল্গুন মাসে এর আতশবাজির মতো দেখতে সাদাটে ফুল ও ফলের সুঘ্রাণ বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়।

১০.বুদ্ধদেব বসু তার স্মৃতি ও ঋতুভিত্তিক কবিতায়  জ্যৈষ্ঠ্য মাসের ভরদুপুরে ফল বাগানের নিস্তব্ধতা এবং আমের পাশাপাশি গাছের ডালে ঝুলে থাকা সাদাটে-গোলাপি গোলাপজাম ফলের রূপকে অলস দুপুরের এক চমৎকার চিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন।

১১.বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার ‍‍`আরণ্যক‍‍` উপন্যাসে গোলাপজামের মায়াবী রূপ তুলে ধরেছেন।

১২.কবি সুফিয়া কামাল তার রূপকথার বইয়ে বরিশালের নানা বাড়ির দিঘির পাড়ে গোলাপজাম পেড়ে খাওয়ার ও এর ভিতরের বীজগুলো নিয়ে নস্টালজিক খেলাধুলার কথা মধুর ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।

May be an image of fruit

গোলাপ জামের ইতিবৃত্ত
গোলাপ জাম। এর বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium jambos. অন্যান্য নাম Rose Apple, Malabar Plum, Gulab Jamun, Jamb, মালাইয়া আপেল, চম্পা। কেউ কেউ মেওয়া ফলও বলে। এটি Myrtaceae গোত্রের বৃক্ষ। ও এর নিবাস মূলত, বাংলাদেশ, ভারত, ফিলিপাইন, চীন, ভিয়েতনাম,  মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায়। রাজা বাদশাহদের হেরেমখানা বা অন্দরমহলের প্রিয় ফল ছিল গোলাপজাম।

এ গাছের কান্ড মসৃণ ও ধূসর বর্ণের। সাধারণত মাঝারি আকৃতির হয়। চিরসবুজ বৃক্ষ। এই গাছ গড়ে ৫০ থেকে ৬০ বছর বাঁচে। গাছ লাগানোর দুই/ তিন বছর পর থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়।

পাতা গাঢ় সবুজ। অনেকটা জাম পাতার মতো। পাতা একক। জোড়ায় জোড়ায় বিপরীত দিকে বিন্যস্ত। পুষ্পবিন্যাস নিয়ত, ফুল উভলিঙ্গিক, অধোগর্ভ, পুষ্পদন্ড লম্বা। ফুল অনেকটা জামরুল ফুলের মত দৃষ্টিনন্দিত শ্বেত বর্ণের।

ফল সুদৃশ্য ও সুমিষ্ট। ছোট পেয়ারা বা বেরি বা বড়ই আকৃতির- গোলাকার ফল। ফলের ত্বক অত্যন্ত মসৃণ। কাঁচা অবস্থায় ফল সবুজাভ এবং কিছুটা শক্ত। তবে পাকলে ফল নরম ও সাদাটে বা ফিকে হলুদ বা ঘিয়ে রঙ বা গোলাপি আভাযুক্ত হয়। ফলের ভিতরে দুটি, ক্ষেত্রবিশেষ একটি বীজ থাকে- যা থেকে বংশবিস্তার হয়।

ফল পাকলে গোলাপের মতো সুগন্ধি বা সুঘ্রাণ বা খুশবু বের হয়। অনেকটা পারস্যের বসরাই গোলাপের মতো। খাওয়ার সময় Rose Water বা গোলাপজলের মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যায়। পৃথিবীতে এটিই একমাত্র ফল যেটিতে গোলাপের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। সাধারণত মাঘ-ফাল্গুন মাসে ফুল আসে এবং বৈশাখ-শ্রাবণ মাসের মধ্যে ফল পাকে। ফল পাকার আগে থেকেই পাখি-বাদুর সহ নানা প্রাণী খাওয়া শুরু করে, তাই এই গাছটি Wildlife supportive plant হিসেবে পরিচিত।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া হয়। কাঁচা অবস্থায় প্রতি ১০০ গ্রামে পুষ্টিমান ১০৫ কিলো ক্যালরি। এটি মূলত ভিটামিন সি, বি ১, বি ২, ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম ও এন্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এর ছাল, পাতা, ফল ও বীজ ওষুধি গুণ সম্পন্ন।এটি ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমিভাব দূর করে ও ডায়াবেটিসের উপকার করে। এটি গরমে শরীর ঠান্ডা করে।

May be an image of Calliandra

সংরক্ষণ:
বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের কাছে তাই এই ফলটি এক অজানা রূপকথার মতো। বাংলার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্যের স্বাদ পৌঁছে দিতে গোলাপ জাম গাছ রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পরিকল্পনা ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপনের তালিকার মাধ্যমে এ বৃক্ষটি আবার ছড়িয়ে পড়বে গ্রামে গঞ্জে- এ প্রত্যাশা এখন উদ্ভিদপ্রেমী সচেতন মহলের। হাজারীবাগ সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক উদ্ভিদবিদ মাশরূহা জাহান বলেন,  "এটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিলুপ্তপ্রায় একটি উদ্ভিদ। বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে শৌখিনভাবে হলেও এই গাছ লাগানো উচিত। এক পশলা বৃষ্টির পর গ্রাম্য পথে হাঁটতে হাঁটতে আমরা যেন আবারও বলতে পারি— ঐ দেখ, গোলাপ জামের গন্ধে বাতাস ম ম করছে!

...........জলপিপি।

লেখক : উপপরিচালক, সিনিয়র সহকারী সচিব, বিসিএস প্রশাসন একাডেমী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

Link copied!