মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বর’ এক সময় ছিল স্থানীয় মানুষের বিনোদন, স্বস্তি আর নান্দনিকতার প্রতীক। সন্ধ্যা নামলেই রঙিন আলোর ঝলকানি, পানির ফোয়ারার ছন্দ আর ফুলের সুবাসে মুখর হয়ে উঠত পুরো এলাকা। অথচ কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই দৃষ্টিনন্দন চত্বর এখন অযত্ন, অবহেলা আর আগাছায় ঢেকে গিয়ে গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
২০২০ সালের ১৫ আগস্ট প্রায় ১৬ লাখ টাকা সরকারি ব্যয়ে নির্মিত এই স্মৃতি চত্বরের উদ্বোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম। সে সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমানের উদ্যোগে পুরনো জরাজীর্ণ ভবন ও আবর্জনার স্তুূপ সরিয়ে এখানে গড়ে তোলা হয় নান্দনিক এই চত্বরটি। দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা, রঙিন লাইটিং, বাগান, স্টিলের বেঞ্চ, বাউন্ডারি ও গেট মিলিয়ে পুরো চত্বরটি খুব দ্রুতই মহম্মদপুরবাসীর কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়।
বিশেষ করে শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলে ফুলে ভরে উঠত পুরো এলাকা। বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ এখানে সময় কাটাতে আসতেন। উপজেলা পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসা সেবা প্রার্থীরাও কিছুটা সময় কাটিয়ে মানসিক প্রশান্তি খুঁজে নিতেন এই চত্বরে। দূর-দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা ছুটে আসতেন এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পানির ফোয়ারাটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সচল নেই আলোকসজ্জাও। মালি বা নিয়মিত তদারকির অভাবে ফুলের বাগান আগাছা, সন ও ঘাসে ভরে গেছে। এক সময় যেখানে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ত, এখন সেখানে ঘাস খেতে দেখা যায় গরুর পালকে। দলবেঁধে ঘোরাফেরা করে কুকুরও। পানির ফোয়ারার বিভিন্ন অংশে জমেছে শ্যাওলা। এক সময়ের ঝকঝকে ও প্রাণবন্ত চত্বর এখন যেন শুধুই অতীতের স্মৃতি বহন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এখানে এলেই মন ভালো হয়ে যেত। এখন চত্বরের ভেতর গরু চরতে দেখে খারাপ লাগে। পুরো জায়গাটি প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। দ্রুত এর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট চত্বরের পশ্চিম পাশে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের কিছু অংশে ভাঙচুর করা হয়। পরে সেটি কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে সেখানে বাংলাদেশের মানচিত্রভিত্তিক নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা বলেন, “চত্বরটি এক সময় নানান ফুলের সমাহারে খুবই দৃষ্টিনন্দন ছিল। দীর্ঘদিন অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে। দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুনভাবে সাজানো উচিত।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ: শাহনুর জামান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। চত্বরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে। আশা করছি, আগামী শীত মৌসুমেই এটি আবার আগের সৌন্দর্য ফিরে পাবে এবং দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে।
কালের সমাজ/কে.পি

