বিশ্বকাপ ফুটবলের দীর্ঘ ৯৬ বছরের পথচলায় যুক্ত হতে যাচ্ছে এক সোনালী অধ্যায়। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মন্টেভিডিওতে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে উত্তর আমেরিকার মাটিতে তা স্পর্শ করতে যাচ্ছে ‘এক হাজারতম’ ম্যাচের অনন্য মাইলফলক। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে গ্রুপ ‘এফ’-এর লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান এবং উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়া।
১৯৩০ থেকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে মোট ৯৬৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের আসরে প্রথমবার ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১০৪টিতে। ফলে গ্রুপ পর্বের লড়াই চলাকালেই দ্রুততম সময়ে পূর্ণ হচ্ছে ম্যাচের এই হাজারী কোটা। আগামী ২০ জুন তারিখটি ফুটবল ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে এই ১০০০তম ম্যাচের কারণে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে মেক্সিকোর বিবিভিএ স্টেডিয়াম। মন্তেরেই শহরে অবস্থিত প্রকৃতির কোলে আধুনিকতার ছোঁয়া এই স্টেডিয়ামটি লাতিন আমেরিকার প্রথম ‘লিড সার্টিফায়েড’ বা পরিবেশবান্ধব স্টেডিয়াম। প্রায় ৫০ হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর এই স্টেডিয়ামটি ২০১৫ সালে উদ্বোধন করা হয়।
স্টেডিয়ামটির বাইরের ঢেউখেলানো কাঠামো তৈরি করা হয়েছে পাশের ‘সেরো দে লা সিলা’ পাহাড়ের আদলে। এর ঝুলন্ত ছাদ দর্শকদের মাঝে তৈরি করে এক অপার্থিব অনুভূতি। কনক্যাকাফ গোল্ড কাপ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করে এই স্টেডিয়াম এখন বিশ্ব ফুটবল মানচিত্রে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। এবার হাজারতম ম্যাচের মধ্য দিয়েও ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে স্টেডিয়ামটি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে মেক্সিকোর নাম। ১৯৩০ সালের ১৩ জুলাই উরুগুয়ের মাটিতে ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বকাপের উদ্বোধন করেছিল মেক্সিকো। সেই ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল উত্তর আমেরিকার দেশটি। প্রায় এক শতাব্দী পর, নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে মেক্সিকো ফুটবল ইতিহাসের এক বৃত্ত পূরণ করতে যাচ্ছে।
তাই জাপান ও তিউনিসিয়ার এই ম্যাচটি কেবল তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং ফুটবল বিশ্বের কয়েক প্রজন্মের আবেগের এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
কালের সমাজ/এসআর

