ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি অনুমোদনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল (৩১/৫/২৬) বিকেল ৪টার দিকে শিবপুরের সাহারপাড়ে এক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। সভাপতি পদের অনুমোদনকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমকে প্রকাশ্যে `লাঞ্ছিত` করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও গতকাল (রবিবারই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ভিডিওতেও স্পষ্টত দেখা যায়- বিবাদমান বিএনপি`র দুই পক্ষের নেতাদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি,পরে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা নিয়ে নবীনগরের বিভিন্ন মহলে এখন আলোচনার ঝড় বইছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়- উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হোসেন আহাম্মদ প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। এরপর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে গত বছরের ১ জুন ইউনিয়ন সভাপতির ঐ শূন্যপদে বিএনপি নেতা ও জেলা যুবদলের সদস্য মাহাবুবুর রহমানকে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির `সভাপতি`র দায়িত্ব দিয়ে দলীয় এক চিঠিতে সাক্ষর করেন বর্তমান এমপি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান।
এ অবস্থায় দীর্ঘ এক বছর পর গতকাল ৩১/৫/২৬) বিকেলে শিবপুরে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিএনপির সেক্রেটারী নাজমুল করিম শিবপুরে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- সে সময় বিক্ষুব্ধ মাহাবুবুর রহমানের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিমের এ নিয়ে প্রচন্ড বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনূর রশীদের নেতৃত্বে উপস্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীর উভয়কে নিবৃত্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ বিষয়ে মাহাবুবুর রহমান বলেন-"আমাকে শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে এক বছর আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি, বর্তমান এমপি মান্নান ভাই দলীয় এক চিঠিতে অনুমোদন দেন। কিন্তু অর্থলোভী সেক্রেটারী নাজমুল করিম তার সাক্ষরের (অনুমোদন) জন্য আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।
আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গত এক বছর যাবত আমার `পদ` টি তিনি আটকে রাখেন।"
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম বলেন-"পাঁচ লাখ টাকা চাঁদার দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। দলীয় চিঠিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ বিষয়ে সাক্ষর করলেও, সাংগঠনিক বিধি মোতাবেক কমিটি না হওয়ায়, আমি কমিটি`র সভাপতি পদে মাহাবুবুর রহমানকে অনুমোদন দেইনি। গতকাল (৩১/৫/২৬) বিকেলে আমাকে মাহাবুব ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা আচমকা সিএনজিতে তুলে নিয়ে অপহরণপূর্বক ওই চিঠিতে আমার স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে।"
মামলার বিষয়ে তিনি বলেন-"রাতে (অনুমান ২.৫০ মি.) সময় এজাহারসহ থানায় এসে ওসির সাথে কথা বলি ও থানায় প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা অবস্থান করলেও থানার ওসি মামলা (এফআইআর) নেয় নাই। এ নিয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে ও পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।"
এ ব্যাপারে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন-"মামলা না নেওয়ার কোন সুযোগ আমাদের নেই। ঘটনা যা ঘটেছে তা আপনারা সবাই জানেন। আপনাদের মিডিয়ার কল্যানেই আমরা ঘটনা জেনেছি। নাজমুল সাহেব হামলার ঘটনা এড়িয়ে অপহরণের ঘটনায় মামলা করতে চেয়ে ছিলেন। তাছাড়া শাহআলম নামে একজনকে বাদী করেছেন কিন্তু ওই কথিত বাদী থানায় উপস্থিত ছিলেন না। বাদী অনুপস্থিত থাকলেতো আমারা মামলা নিতে পারি না।"
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ অড্যাভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন-"এ ব্যাপারে দলীয় ফোরাম থেকে কোন অভিযোগ পত্র বা মৌখিকভাবে কেউ আমাকে জানায়নি, আমি ফেসবুকের মাধ্যমে অবগত হয়েছি, শিবপুর ইউপি কমিটির নেতৃবৃন্দ আমার নিকট এসেছিলেন, আমি সাংগঠনিক ভাবে বিষয়টি যথাযথ ব্যবস্থা নেব। মামলার নেওয়া ও না নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণটাই থানার এখতিয়ার, আপনারা জানেন আমি এসব বিষয় হস্তক্ষেপ করি না।
আমি আমার দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নিষেধ করেছে থানায় না যেতে। কমিটির বিষয়টি বছর খানেক আগের ঘটনা। এটা বিধি সম্মতভাবেই করা হয়েছে। আজকে যারা বড় বড় কথা বলছেন, দলের দুঃসময় তারা কোথায় ছিলেন? দলের দুঃসময়ে যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদেরকেই মূল্যায়ন করেছি।
কালের সমাজ/কে.পি

