যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা সংক্রান্ত সব ধরনের যোগাযোগ ও নথিপত্র বিনিময় স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, তা আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, যুদ্ধবিরতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে লেবাননের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিভিন্ন ফ্রন্টে তা ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের আলোচনাকারী দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত সব ধরনের সংলাপ এবং নথিপত্র আদান-প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরোক্ষ এই আলোচনা আবার শুরু করার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, আলোচনার টেবিলে ফিরতে হলে গাজা এবং লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ‘অবিলম্বে বন্ধ’ করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখল করা এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
২০০০ সালে লেবানন থেকে দীর্ঘ দখলদারত্ব অবসানের পর এবারই প্রথম ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের দক্ষিণে এত গভীরে প্রবেশ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির বাসিন্দাদের বিমান হামলার আগেই এলাকা খালি করার নির্দেশ বা সতর্কতা জারি করেছে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরান এবং তার মিত্ররা হরমুজ প্রণালি ফের সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলোকে সক্রিয় করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথগুলো অবরুদ্ধ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: গালফ নিউজ
কালের সমাজ/কে.পি

