কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ ভাবে একটি মেলা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে স্হানীয় যুবদল নেতা আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, ‘শিশু-কিশোর মেলা’ নামের এ আয়োজনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এ মেলা পরিচালনা করছেন বলেও স্হানীয়রা জানান।
উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় একটি ইটভাটার পাশে ঈদুল আজহার আগ থেকে মেলাটি শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত মেলা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
মেলায় বিভিন্ন দোকানের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল প্রদর্শনী ও বিনোদনমূলক আয়োজন রাখা হয়েছে। মেলা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাছাড়া শিশু কিশোরদের মাঝে প্রতিনিয়ত ঘটছে ঝগড়া বিবাদ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রশাসনের নজরদারি ছাড়াই মেলাটি পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জড় বইছে। এতে সাধারণ জনসাধারণের মাঝে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের। এ ছাড়াও মেলার জন্য বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুত সংযোগ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে অনেকেই উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও ক্ষমতাশালীদের প্রভাবের কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না তারা।
মেলার আয়োজনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকার তরুণরা মেলার আয়োজন করেছে। এখানে তিনি একা নন। অনেকই জড়িত আছে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবু রায়হান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মেলার অনুমতি দেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর মহাব্যবস্থাপক শহীদ উদ্দিন বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে এ ধরনের মেলার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া মেলা পরিচালনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

