ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

লামায় ইউএনও আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও ডেন্টাল সেবা চালু

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান | জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম লামায় ইউএনও আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও ডেন্টাল সেবা চালু

দীর্ঘদিন ০৮ বছর বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও চালু হয়েছে আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও ডেন্টাল সেবা। এখন থেকে রোগীদের আর বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে না। 

এখন থেকে সরকার নির্ধারিত স্বল্প খরচে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও দাঁতের পরীক্ষা করানো যাবে। বন্ধের দিন ছাড়া বাকী ০৬দিন এ সেবা দেওয়া হবে।

বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন এ সেবা কার্যক্রমের শুভ উদ্ভোধন করেন। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম, পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন, ডা. মোহাম্মদ সোলায়মান, ডা. মো. ফরহাদ উদ্দিন‍‍`সহ প্রমুখ। পুনরায় চালু হওয়া এই সেবা উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও পাশের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান, ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও দাঁতের চিকিৎসা সেবা ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে দরিদ্র রোগীরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু ডেন্টাল ও আল্ট্রুাসনোগ্রাফী মেশিনটি নষ্ট থাকায় চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে তাদের ফিরে যেতে হচ্ছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন গর্ভবতী নারী ও অন্যান্য রোগীরা। এক পর্যায়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিনের দৃষ্টি গোচর হয়। পরে নির্বাহী অফিসার রোগীদের ভোগান্তির লাঘবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাফী ও দাঁতের চিকিৎসা সেবা চালুর উদ্যোগ নেন। পরে নিজ ও তার কয়েকজন বন্ধরু আর্থিক সহযোগিতায় মেশিন দুটি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানায়, দীর্ঘদিন আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ডেন্টাল মেশিনটি বিকল থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হতো। এতে অনেক অর্থের অপচয় হতো, ফলে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে পারতেন না। এখন থেকে অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে রোগীরা এই সেবা পাবেন। এতে বিশেষভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাফীতে উপকৃত হবেন গর্ভবতী নারী ও অন্যান্য রোগীরা, যারা নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চান। এ সেবা দিবেন ডা. সুমাইয়া বিনতে ইউসুফ। এছাড়া শিশু থেকে বয়স্করা, যারা দাঁতের সমস্যায় আছেন, তারা সেবা পাবেন। এ সেবা দিবেন ডা. প্রহেলিকা বড়ুয়া ও ডা. সামিয়া ইসলাম।স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, বাবু মং মার্মাসহ বেশ কয়েকজন বাসিন্দা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে। তারা চান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হোক, যাতে গ্রামীণ জনগণ সহজেই উন্নত চিকিৎসা পেতে পারেন।

আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা নিতে যাওয়া মো. হাসান বলেন, আমরা এতদিন বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করতাম। এখন সরকারি হাসপাতালে অল্প খরচে এই সেবা পাওয়ায় আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমবে। দাঁতের চিকিৎসা নিতে যাওয়া শিশু পিহাদ’র মা আয়েশা জানান, দাঁতের সমস্যায় ছেলেটা অনেকদিন ধরে কষ্ট পাচ্ছিল। আর্থিক সংকটের কারণে ডায়াগনিস্ট সেন্টারে গিয়ে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হচ্ছিলনা। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেন্টাল সেবা চালু হওয়ায় ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে পারলাম।উদ্বোধনের দিন রোগীদের আল্ট্রাসনোগ্রাম করান সুমাইয়া বিনতে ইউছুফ বলেন, আজ থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু হয়েছে। বন্ধের দিন ছাড়া সপ্তাহে ৬ দিন এ সেবা দেওয়া হবে। আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে সরকারি ফি দিয়ে স্বল্প খরচে রোগীরা এ সেবা নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম বলেন, দীর্ঘদিন পর নির্বাহী অফিসারের প্রচেষ্টায় আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ডেন্টাল সেবা পুনরায় চালু সম্ভব হয়েছে। ফলে রোগীরা সময়মতো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে পারবেন। এতে নিরাপদ মাতৃত্বসহ শিশু থেকে বয়স্কদের দাঁতের সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। এমন মহৎ কাজের জন্য নির্বাহী অফিসার ও তার বন্ধুদেরকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

কালের সমাজ /কে.পি

Link copied!