গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর গ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী মোমতাজ উদ্দিনের (৫৪) শেষ সম্বল ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশী হারুন অর রশিদ (ময়না), ইয়াসিন, সালমা খাতুন ও মাসুমের বিরুদ্ধে সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারী মোমতাজ উদ্দিন জানান, প্রতিবেশী এই চক্রটি তার ছেলে আল আমিনকে সৌদি আরবে বৈধ আকামা ও ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়ে ধাপে ধাপে ৬ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু সৌদি পৌঁছানোর পর আল আমিনের ভাগ্যে জোটেনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো চাকরি বা বৈধ কাগজপত্র। বর্তমানে সৌদি আরবে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোমতাজ উদ্দিন বলেন, আমি নিজে শারীরিক প্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে ভিটেমাটি বা জমানো টাকা দিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন ছেলে সেখানে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। অভিযুক্তদের কাছে বারবার টাকা ফেরত ও সমস্যার সমাধান চাইলেও তারা আমাকে পাত্তা দিচ্ছে না, উল্টো হুমকি দিচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা ও বিবাদীর বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ (ময়না)-এর বাড়িতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ময়না বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ময়না সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আল আমীন বিদেশে ভালো আছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছেন।
তবে বিবাদীর এই বক্তব্যের বিপরীতে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আল আমীনের বর্তমান পরিস্থিতির অডিও রেকর্ড ও ছবি তাদের কাছে রয়েছে যা ময়নার দাবির সত্যতা প্রমাণ করে না।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ভুক্তভোগীর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
কালের সমাজ/কে.পি

