ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস

ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া তহসিলদার নিলুফা ইয়াসমিন

জেলা প্রতিনিধি,খুলনা | আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া তহসিলদার নিলুফা ইয়াসমিন

কোন ভাবেই যেন ঘুষ,দুর্নীতির লাগাম টানতে পারছে না ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরকারী ভুমি খাদক,ঘুষখোর,দুর্নীতিবাজ তসিলদার(নায়েব)নিলুফা ইয়াসমিন’র। তিনি যেন বেপরোয়া গতিতে এগিয়ে চলেছেন। তার নামে ইতিমধ্যে অনেক টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ভূমি সেক্টরে দূর্নীতি অনিয়ম নিয়ে সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীগন বলেন,খুলনা বিভাগীয় কমিশনার দপ্তর ও জেলা প্রশাসক দপ্তর চাইলে এ সকল অনিয়ম ও দূর্নীতি কমিয়ে আনতে পারেন।ভুক্তভোগীগন জেলা প্রশাসক(ডিসি),উপজেলা এসিল্যান্ড বরাবর আবেদন করলেও কোন বিচার পান না।বরং ভূমি কর্মকর্তারা তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন।এ বিষয়ে কর্ণপাত করছে না।

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ নিচ্ছেন না কোন ব্যবস্থা। দেখা গেছে তাদেরকে আরো পুরুস্কৃত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কে ভূমির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতির প্রমান দিলেও অদৃশ্য কারনে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ভুমি অফিসে চাকরির শুরু থেকেই এ পর্যন্ত নায়েব নিলুফা ইয়াসমিনের বহু অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও তাকে প্রমোশন দেয়া হয়েছে। বেড়ায় ক্ষেত খেয়ে ফেলছে।সর্বশেষ অদক্ষ অযোগ্য একজন তহসিলদার নিলুফা খুলনা জেলার সবচেয়ে ব্যস্ততম ইউনিয়ন ভূমি অফিস থুকড়ায় যোগদানের পর থেকে ২৬টি মৌজার ভূ’মি সেবা গ্রহিতাগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। চলছে রমরমা ঘুষ বানিজ্য। থুকড়ার তহশিলদার নিলুফা’র ডান হস্ত ভূমির দালাল ও বাম হস্ত ভূমি সহয়তা কেন্দ্রের মালিকদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির একটি চক্র। থুকড়া ভূমি অফিস যেনো দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। 

সরকারের ১ খতিয়ানের জমি ও ১/১ খতিয়ানের জমি মোটা অংকের টাকা খেয়ে রিপোর্ট দিচ্ছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তি নামে নামজারি করে দিচ্ছেন সরকারী জমি। এর সাথে রয়েছে ডুমুরিয়া এসিন্যান্ড অফিসের জোকসাজোস। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নামে অফিস সহায়ক, অফিস সহকারী, সার্ভেয়ার সাকিরুল, হিসাবরক্ষক, নাজির ও দালালের মাধ্যমে ঘুষের টাকা নেওয়া হচ্ছে। দালালের মাধ্যমে টাকা না দিলে ফাইল মাসের পর মাস ঝুলে থাকছে। অনলাইনে আবেদন করার পর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে খসড়া করানোর প্রস্তাব নিতে ঘুষ, প্রত্যয়নে ঘুষ, নাজিরের টেবিলে ঘুষ-সব ধাপেই বাড়তি টাকা দিতে হয় বলে নির্ভর যোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়।
বর্তমান সহকারি কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্রান্ড’র সময়ে গত ২৮নভেম্বর-২৫, ৮২০০৬৩২ নং আবেদনে সৃষ্ট ৯৯৫৫/২০২৫-২৬ নামজারীতে চকআসানখালী মৌজার বিআরএস ৩০৪৩ দাগের,১/১ খতিয়ানের ২ একর ৫০ শতক সরকারি জমি হোসেনেয়ারা বেগম দিং নামে নামজারি করে দিয়েছে। চকমথুরাবাদ মৌজার ৭টি খতিয়ান হতে ১৮১ নং দাগ সহ ৭টি দাগে ২ একর ৬৩ শতক ২১ অযুতাংশ জমি এ কে এম নওশের আলীকে ভূয়া ডিক্রির বুনিয়াতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নামজারি করতে সরেজমিনে রিপোর্ট প্রদান করে থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব তহসিলদার নিলুফা ইয়াসমিন। 
ইতিপূর্বেও নিলুফা’র অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় নিজস্ব গুন্ডা বাহিনী দিয়ে ডুমুরিয়া থুকড়া গ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক শেখ জামিরুল ইসলামকে শারীরিক নির্যাতন করে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ১ নভেম্বর-২৫ ডুমুরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার জিডি নং-৩১। জিডির প্রসিকিশন খুলনার আদালতে গড়িয়েছিল। পরবর্তীতে  তৌসিলদার নিলুফা ইয়াসমিন মাস্তান বাহিনী দিয়ে প্রবীণ জামিরুলকে বাড়ি থেকে তুলে এনে জোর করে জিডি উঠাতে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

 নিলুফা ইয়াসমিন বটিয়াঘাটার বাইনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে থাকাকালীন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওই এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যদের দিয়ে একটি বাহিনী ছিল। সাংবাদিকরা কোন তথ্য আনতে গেলে তাদেরকে লেলিয়ে দিতেন। নিলুফা যেখানে কর্মরত ছিলেন সেখানেই স্থানীয় একটি চক্র সৃষ্টি করে ঘুষ ও দুর্নীতির বলয় গড়ে তোলেন। থুকড়ার স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান,বর্তমানে যদি কেউ থুকড়া ভূমি নায়েবকে কিছু বলে সে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নাম বলেন। হুইপের সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। 

আমার স্বামী একজন বিএনপি’র নেতা ও মোবাইল বের করে হুইপ এর সঙ্গে তোলা ছবি দেখান। আর আওয়ামীলীগ আমলে শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও তার ভাই শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ’র নাম বলতেন। এলাকাবাসী জানান,সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রীর ভাইসহ আত্মীয়রা নিলুফার বাড়ীতে সরকারি গাড়ী নিয়ে আসতেন। ভুক্তভোগী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মরত ওয়ারেন্ট অফিসার কাজী ইমামুল হক (১ এপ্রিল-২০২৬) তার ছোট চাচার ডুমুরিয়ার বিল পাবলা মৌজার ৭২৯ নং খতিয়ানের ১৪৪১ দাগে ২৫ শতক জমি মিউটেশন করার জন্য অনলাইনে আবেদনের পরবর্তী কার্য্যক্রম জানার জন্য থুকড়া ভূমি অফিসে গেলে নায়েব নিলুফা ইয়াসমিন তার কাছে অতিরিক্ত টাকা(ঘুষ) দাবি করে। ঘুষ চাওয়া নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয় নিয়ে সেনাবাহিনীর সিনিয়ার ওয়ারেন্ট অফিসার বাদী হয়ে ২৩ মে-২৬ ডুমুরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে ও ঘুষ,দুর্নীতির বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক’র নিকট আবেদন জমা দিয়েছেন।

 জিডি নং ১২৭৩। অপর ভূক্তভোগী থুকড়া বাজারে সেন্টু নামে এক দোকান মালিকের জায়গায় কথিত কিছু ত্রুটি উল্লেখ করে তার নিকট ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবী করা হয়। নায়েব নিলুফাকে ঘুষের টাকা না দেওয়ার কারনে সার্ভেয়ার মিজানুর রহমানের মাধ্যমে দাগ খতিয়ান বিহীন নোটিশ দিয়ে ততকালিন এসি ল্যান্ড অপ্রতিম কুমার চক্রবর্তীকে ভুল ব্যাখা দিয়ে শুধু ঐ দোকানঘরটি সিলগালা করা হয়। যেটি আজও বন্ধ রয়েছে। এসকল ঘুষের টাকায় গড়ে তুলেছেন নামে ও বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। যার সকল দালিলিক কাগজ পত্র এ রিপোর্টারের হাতে এসেছে।নিলুফা ইয়াসমিনের বাড়ী মুজগুন্নির এলাকাবাসি জানান,তার স্বামী সেলিম করিম কোন কর্ম করেন না।স্ত্রীর আয়েই সংসার চলে। আমরা কোনদিন তাকে কাজ করতে দেখিনি। 
ডুমুরিয়া উপজেলার সহকারি  কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অমিত কুমার বিশ্বাস জানান, আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। সেনাবাহিনীর সদস্য ইমামুল সাহেবের বিষয়টি আমি জেনেছিলাম।  থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তোহসিলদার  নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে খুলনা জেলা প্রশাসকের বরাবর কয়েকটি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে শুনেছি।আমার কাছে কোন অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন বলেন,ডুমুরিয়ার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহসিলদার নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ইতিপূর্বে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে বিষয়টি তদন্ত চলছে। সেনাবাহিনী সদস্যের সাথে ঘুষের টাকা চাওয়া নিয়ে ঘটনার বিষয় তিনি জানান তার নামে যদি মামলা হয়ে থাকে সাজা হলে আমরা আইনগত  ব্যবস্থা নিব। তবে খুলনা জেলা প্রশাসককে মুঠোফোন নাম্বারে ফোন করে ও কয়েকদিন সরাসরি গিয়েও সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি।  তিনি ব্যস্ত থাকার কারণে এই বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন নিলুফা ইয়াসমিনের খুটির জোর কোথায়? তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট জমা হলেও বহাল তবিয়াতে রয়েছেন। তবে অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না কর্তৃপক্ষ? ডুমুরিয়ার ২৬ টি মৌজার ভুক্তভোগীরা কর্র্তৃপক্ষের নিকট দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর নায়েব নিলুফা’র আয় বৈহিরভূত অবৈধ সম্পদ ক্রোকের দাবি জানান।  পরবর্তিতে আসছে------

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!