পটুয়াখালীতে গাজী মনিবুর রহমান নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির বলি হলেন এক নিরীহ নির্মাণশ্রমিক। নির্মাণকাজে ন্যূনতম নিরাপত্তাবিধি নিশ্চিত না করেই চারতলা ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগ। কর্তৃপক্ষের এই চরম অবহেলার খেসারত হিসেবে মাচা ভেঙে পড়ে সাইদুল (২৩) নামের এক তরুণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিন শ্রমিক।
জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার করমজাতলা এলাকায় ওই নার্সিং কলেজের নির্মাণাধীন ভবনে প্লাস্টারের কাজ চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষের তদারকিহীনতা এবং কোনো ধরনের সেফটি গিয়ার (নিরাপত্তা সরঞ্জাম) ছাড়াই শ্রমিকদের অত্যন্ত নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ মাচায় কাজ করতে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে এই অনিরাপদ মাচাটি হুড়মুড় করে ভেঙে নিচে পড়ে গেলে সাইদুলসহ চার শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
নিহত সাইদুল সদর উপজেলার বল্লবপুর এলাকার জাহাঙ্গীর মাতবরের ছেলে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সাইদুলের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে আহত অপর তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তারা বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
একটি চিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েও গাজী মনিবুর রহমান নার্সিং কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের এমন অমানবিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, চারতলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চতায় কাজ করার আগে মাচার স্থায়িত্ব ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তাতে চরম উদাসীনতা দেখিয়েছে। নিরাপত্তাবিধি তোয়াক্কা না করে কীভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি এই প্রাণঘাতী পরিবেশে কাজের অনুমতি দিল, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিকের জীবনের কোনো তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে নেওয়ার এই ঘটনায় জড়িত কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
কালের সমাজ/এসআর

