দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর ও ট্রেজারারদের সম্মানে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনের ২০৪ নম্বর কক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইউট্যাব ইবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাঃ তোজাম্মেল হোসেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাকির হুসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মমতাজ হোসেন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী।
অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাকির হুসাইন বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এখানেই লেখাপড়া করব এই আশা নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম। এখানে এসে সবার সঙ্গে মিলেমিশে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষকদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমাদের আচার্য যে নিয়তে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি এ জন্য সবার দোয়া চাই।’
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, ‘ইসলামী, সাধারণ ও বিজ্ঞান শিক্ষার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।’ তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদার মানসিকতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাঃ তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ২০১০ সালে ইউট্যাবের নাম ও কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়। ২০১২ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইউট্যাবের অনুমোদন দেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন কার্যক্রম থমকে থাকার পর ২০১৮ সালে সংগঠনটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, ‘আমাকে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটি একেবারেই নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে সবকিছুই শুরু থেকে করতে হচ্ছে। বিভাগ চালু, শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা, জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সবই আমরা শুরু করছি। আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারি, এ জন্য সবার দোয়া কামনা করি।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের পর বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অতীতে নানা ব্যতিক্রম দেখা গেলেও এবার ইউট্যাবের মহাসচিবের উদ্যোগে বিগত দিনে শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের নাম উচ্চতর পর্যায়ে তুলে ধরে মূল্যায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তরাই কেবল একচ্ছত্র অধিকার পাওয়ার যোগ্য নন; ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য জায়গায় আরও অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ সিনিয়র শিক্ষক রয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দশের অধিক শিক্ষক ও অ্যালামনাই বিভিন্ন জায়গায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেয়েছেন, যা অত্যন্ত গর্বের।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা। এখানকার অতীতের প্রশাসনিক কার্যক্রম খুব একটা সিস্টেমেটিকভাবে পরিচালিত হয়নি। আমরা স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয়, আমরা যে সময়টা এখানে কাজ করছি, ব্যর্থ হওয়ার মতো কোনো কাজ করিনি। আশা করি, সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে পারব।’
অনুষ্ঠানে ইউট্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কালের সমাজ/এসআর

