ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

হাত-পা বেঁধে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি সৎ মাকে মারধর, ফেলে গেছে বাড়ির বাহিরে

জেলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাট | অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম হাত-পা বেঁধে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি সৎ মাকে মারধর, ফেলে গেছে বাড়ির বাহিরে

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের মাদাই খরপা গ্রামের বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ফাতেমা (৫০) নামে সৎ মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সতিনের ছেলে-মেয়ে ও ছেলে বউয়ের বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, তার হাত ও বুকে যখম ও দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছে। এমনকি হাত-পা বেধে সারারাত বাড়ির বাহিরে তেতুলগাছের নিচে ফেলে রেখেছে। 

এ লোমহর্ষক ঘটনা গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ঘটার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি নারীকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। খবর পেয়ে রাতেই ওই নারীর বাবার বাড়ির লোকজন হাসপাতালে আসেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। ভূক্তভোগী ওই নারী মাদাই গ্রামের মো. খয়বর আলীর স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভূগছিলেন। তার স্বামী মো. খয়বর আলীর বয়স ৮৫ বছর হওয়ায় অসুস্থ্য হয়ে ঘরের মধ্যে বিছানায় সয্যাশায়িত। এ অবস্থায় তাদের ভরণ-পোষণ ও দেখভাল নিয়ে সন্তান ও তাদের স্ত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোস বিরাজমান করছে। এরআগেও বেশ কয়েকবার সন্তানরা তাদের উপর শাররীক নির্যান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি নারীর সতিনের ছেলে আব্দুল খালেক ও আব্দুল খলিল এবং তাদের স্ত্রীরা মিলে ফাতেমার হাত-পা বেধে বেধরক মারপিট করে। এতে ফাতেমার দাত ভেঙ্গে যায়, বুকে আঘাত পায়, হাতে ও বুকে মারাত্মক জখম হয়, পিঠ-ঘার সহ মারপিটের চিহ্ন রয়েছে। এতেই ক্ষান্ত না হয়ে তারা সবাই মিলে ফাতেমার হাত-পা বেধে সারারাত বাড়ির বাহিরে তেতুলগাছের নিচে ফেলে রাখে।  

প্রতিবেশী গৃহবধূ রিমি আক্তার বলেন, সৎ ছেলে ও ছেলের বউ মিলে মারধর করেছে। হাত-পা বেধে সারারাত বাহিরে ফেলে রেখে গেছে। সকালে গিয়ে দেখি তেঁতুল গাছের নিচে হাত-পা বাধা অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে। ওই অবস্থায় গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

আরেক প্রতিবেশী পারমিনা আক্তার বলেন, পূর্বেও ফাতেমাকে মারধর করেছে ছেলেরা। তাকে খুব বেশি নির্যাতন করেছে ওরা। ওর দাত পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলেছে তার সৎ ছেলে ও ছেলের বউরা। ওদের শাস্তি চাই।


অভিযুক্ত সৎ ছেলে মো. আব্দুল খলিল বলেন, আমরা তাকে মারপিট করিনি। ওই রাতে আমার ভাই আব্দুল খালেক সৎ মাকে ধরেছিল, আর বাবা তাকে মারপিট করেছে। তাতে আমাদের দোষ কি ? বেধে রেখে মারপিট করে দাত ভাঙ্গা ও হাতে যখম হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবই সত্য, তবে আমরা মারপিট করিনি।

ভূক্তভোগীর ভাই মো. আলম হোসেন বলেন, আমার বোনকে ওরা নিয়মিত মারপিট করে আসছে। অনেক বিচার-শালিসও হয়েছে। বয়স বেশী হওয়ায় আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসতে পারিনি। রাতের ঘটনায় পরদিন রাতে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার বোন বেডে শুয়ে আছে। চিকিৎসকের পরামর্শে পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ততক্ষণে তাকে প্রতিবেশীরা হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে তাকে না পাওয়ায় নিকট আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!